দুর্নীতির মামলায় পিকে হালদারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা 

৮৩ কোটি ৮৪ লাখ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতির এক মামলায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আমলে গ্রহণ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তার সিন্ডিকেটের আরও ১১ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন। পলাতক ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন– এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি পিকে হালদার (পলাতক), শঙ্ক বেপারী (জেল হাজতে আটক), মো. নুরুল আলম (পলাতক), নাসিম আনোয়ার (পলাতক), মো. নুরুজ্জামান (পলাতক), মোহাম্মদ আবুল হাসেম (পলাতক), এম এ হাশেম (পলাতক), জহিরুল আলম (পলাতক), মো. নওশেরুল ইসলাম (পলাতক), বাসুদেব ব্যানার্জি (জেল হাজতে আটক), পাপিয়া ব্যানার্জি (জেল হাজতে আটক), রাশেদুল হক (পলাতক), সৈয়দ আবেদ হাসান (জেল হাজতে আটক), নাহিদা রুনাই (জেল হাজতে আটক আছে), আল মামুন সোহাগ (পলাতক), রাফসান রিয়াদ চৌধুরী (জেল হাজতে আটক), রফিকুল ইসলাম খান (পলাতক) ও মর্জিনা বেগম (পলাতক)।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে, প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নামসর্বস্ব/কাগুজে প্রতিষ্ঠান ‘মুন এন্টারপ্রাইজের’ নামে রেকর্ডপত্র প্রস্তুত করে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিককে ঋণ পেতে এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের গ্রহীতা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহায়তার মাধ্যমে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ভুয়া ঋণের কাগজপত্র প্রস্তুত করেন। পরবর্তী সময়ে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করেন।

পরে বিভিন্ন হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ওই ঘটনায় ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে গত ২০ এপ্রিল দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

উল্লেখ্য, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে আলোচিত পিকে হালদার দেশ ছেড়ে পালিয়ে নাম পরিবর্তন করে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২২ সালের ১৪ মে সেখান থেকে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই কারাবন্দি রয়েছেন। সে সময় অবৈধ অর্থপাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ইডি আরও ছয় জনকে গ্রেফতার করেছিল।