পানিতে ডুবেই প্রাণ গেলো তরুণ ডুবুরির, কী ঘটেছিল

নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মো. সাদিক। দিনভর প্রায় ৮ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর।

মো. সাদিকের জন্ম ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমরাকান্দি গ্রামে। তার বাবা আশরাফ শেখ এবং মা লিলি বেগম। তিনি বিবাহিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ফায়ার জেটিতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। এসময় ডুবুরি সদস্য সাদিক, শামসুল এবং স্পিডবোট চালক সজল একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে ঢেউয়ের তোড়ে সাদিক স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। সহকর্মীরা ধারণা করছেন, নদীতে পড়ার সময় তিনি মাথায় আঘাত পান। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান ডুবুরি মো. সাদিক। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি টিম যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে মানিকগঞ্জের আরিচা স্থল নদী ফায়ার স্টেশনের (সংযুক্ত টঙ্গী ফায়ার স্টেশন) ডুবুরি মেরাজ আলী নিখোঁজ ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন।

মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগদান করেন সাদিক। কর্মজীবনে তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় রাষ্ট্রীয় পদকেও ভূষিত হন তিনি।