রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এক আসামি আদালতের প্রতি অনাস্থা আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৭ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আজ আদালতের প্রতি আসামির অনাস্থা বিষয়ে আবেদনের ওপর গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিদের পক্ষের আইনজীবীর দাদার মৃত্যু হওয়ায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তারা। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক নতুন করে এই তারিখ ধার্য করেছেন।”
এর আগে গত ১৯ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান মাহমুদুল হাসান মাহিন নামে এক আসামি। মাহিনের পক্ষে তার আইনজীবী মাশরুর হোসাইন এই আবেদন জমা দেন।
মাহিনের আইনজীবী মাশরুর হোসাইন জানান, গত ১২ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। ওইদিন যে পরিমাণে বৃষ্টি। আদালতে আসতে পারিনি। আমি সাত আসামির পক্ষে মামলা দেখি। একটা দিন সময় দিলে কি এমন ক্ষতি হতো। অভিযোগ গঠন করে দিছে। সেই আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা নেই। আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেছি।
মামলার আসামিরা হলেন— মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা। তবে মামলাটিতে তদন্তে ত্রুটি থাকায় পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
চলতি বছরের ১০ মে তদন্ত করে আবারও ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।
গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত মিটফোর্ড এলাকার রজনি ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।