এক সপ্তাহে পুলিশ, র্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে সীমান্তের ১০টি পয়েন্ট দিয়ে ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বিজিবি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা জাহেদ উর রহমান জানান, ১৯ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৫৭ রাউন্ড গুলি-কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৯টি মামলা করে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৬ ইয়াবা, ১ কেজি ১৮২ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার ৬৩৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ৩০ হাজার ৪৭৮ ট্যাপেনটাডল।
একই সময়ে র্যাব চারটি অস্ত্র, ১৭৩ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার ৮২৭ বোতল ফেনসিডিল ও সদৃশ সিরাপ, ২৫২ কেজি গাঁজা, ৭৬ হাজার ৯০৮ ইয়াবা এবং ৯৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে। বিভিন্ন অপরাধে ৪৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় নয় জন এবং কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো এক আসামিকেও গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বিজিবি ৩৮ জনকে গ্রেফতার ও ৩৪টি মামলা করেছে। উদ্ধার করেছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ২২২ ইয়াবা, ২২১ গ্রাম স্বর্ণ, ৭ দশমিক ৯৩০ কেজি রৌপ্যসহ প্রায় ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য।
ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী সীমান্তে ১০ ঘটনায় ৬০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। মিয়ানমার সীমান্তে নয় জনের অনুপ্রবেশ চেষ্টা প্রতিহত এবং একজন বাংলাদেশিকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
বন্যার সময় বিজিবি ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। কোস্ট গার্ড মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভিযান চালিয়েছে। আনসার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও কারা অধিদফতরের নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।