ছিনতাইয়ের পর মুদি দোকানিকে হত্যা: একজনের যাবজ্জীবন, অন্যজন খালাস

রাজধানীর বংশালে মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুসকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার মামলায় মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর আসামি মো. ইউনূস মিয়াকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পীর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাসেম এ তথ্য জানান।

রায়ে মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপর আসামি মো. ইউনূস মিয়াকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে ইউনূস মিয়া প্রায় ৮ বছর ৪ মাস কারাভোগ করেছেন। আর ঘটনার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন মাসুম মিয়া।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান জানান, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মাসুম মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দিয়েছেন। অপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যাগে খাবার ও কাপড় নিয়ে রিকশায় গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুস। পথে বংশাল থানার সিদ্দিকবাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ব্যক্তি তার রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে থাকা মালামাল ও টাকা-পয়সা দিতে বলে। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা তার বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুল কুদ্দুসকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ১০ নভেম্বর মামলার তদন্ত শেষে দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম।

২০১৭ সালের ৭ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।