বিচারের জন্য প্রস্তুত জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলীর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন।

মামলার আসামিরা হলো, বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। সেদিন বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রীর বাসার নিচ তলায় জোবায়েদকে ছুরি মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় দুই দিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।

অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান, মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী উঠে আসে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মো. জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ১৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়ানোর জন্য যান। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায়, জোবায়েদ স্যার, খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ৭টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান।

তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।