জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার ‘দাওলাতুল ইসলামের’ দুই জনের রিমান্ড

ঢাকার ডেমরা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার ‘দাওলাতুল ইসলামের’ দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এরা হলেন— জুয়েল ভূইয়া ওরফে ওস্তাদ (২৭) ও মো. আরিফ চৌধুরী (২৪)।  

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই আদেশ দেন।  

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন বলেন, “আদালত জুয়েল ভূইয়াকে তিন দিন এবং আরিফ চৌধুরীকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এসআই  মো. রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।   

আবেদনে বলা হয়, রবিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এটিইউ জানতে পারে, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা ও প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক দ্রব্যসহ ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় কয়েকজন অবস্থান করছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সারুলিয়া পশ্চিম বক্সনগর নিঝুমবাগ এলাকার গরিবের নেওয়াজ মসজিদ রোডে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চায়ের দোকানের সামনে দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।  

পুলিশের দাবি, অভিযান চালিয়ে জুয়েল ভূইয়াকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই সময় আরিফ চৌধুরী পালানোর চেষ্টা করলে প্রায় ৮-১০ গজ দূরে গিয়ে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।  

আরও বলা হয়, আসামিদের কাছ থেকে কালো কসটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি তাজা ডেটোনেটর বোমা উদ্ধার করা হয়। বোমা দুটি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হওয়ায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয়-ধ্বংস করে। 

পুলিশ পরে আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি গ্যাস লাইটসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও দাবি করেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিজেদের ‘দাওলাতুল ইসলাম’-এর সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে। সংগঠনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে তারা ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে।  

মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

তবে আসামিদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না।  

এই ঘটনায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের এসআই পলাশ আলী ডেমরা থানায় রবিবার মামলা দায়ের করেন।