হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সুজন-ওমরকে

রাজধানীর পৃথক দুই থানার দুই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে।

রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত যাত্রাবাড়ী থানার পারভেজ হাওলাদার নামে এক যুবক হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে এবং আরেক মেট্রোপলিটন মাহবুব আলমের আদালত বিএনপি নেতা শহীদ ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমরকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এসব তথ্য জানান। 

পারভেজ হত্যা মামলায় গত ১৯ অগাস্ট নুরুল ইসলাম সুজনকে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জাকির হোসেনকে এবং আদাবর থানার এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ বিএনপি নেতা শহীদ ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় ২৪ অগাস্ট শাহজাহান ওমরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।

আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রবিবার (৩০ আগস্ট)। এ দিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সুজন ৫ মামলায় এবং শাহজাহান ওমর তিনটা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছালে নতুন করে তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। জেলে আটকে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হচ্ছে।’

পারভেজ হত্যা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার কাঁচাবাজারের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন পারভেজ। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হাত বোমা নিক্ষেপ এবং বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করা হয়। একটি গুলি তার মুখের বাম পাশে লেগে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। পরে তাকে নিকটস্থ যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেড এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নিহতের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আদাবর থানার শ্যামলী ক্লাব মাঠসংলগ্ন এলাকায় ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক জোমাদ্দার গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইসহাকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে ২০২৫ সালের ২ জুলাই আদাবর থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার শ্যামলীর একটি হাসপাতাল থেকে নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় শাহজাহান ওমরকে। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।