মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু: শিক্ষকের জামিনে ক্ষুদ্ধ বাবা

যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মাদ্রাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআনের ৮ বছরের ছাত্র মুদাচ্ছিরকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন হাফেজ মোহাম্মদ উল্যাহ।

ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শুনানি নিয়ে জামিনের আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এস.এম আবুল কালাম (আজাদ) এতথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে আসামির জামিনের আদেশে ক্ষুদ্ধ হয়েছে মুদাচ্ছিরের পরিবার।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মাদ্রাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআন মাদ্রাসার চতুর্থতলার শিক্ষকদের টয়লেট থেকে মুদাচ্ছিরের গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা জিয়াউর রহমান তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অপর দুই আসামি হলেন— মাওলানা কারি আনিছুর রহমান ও শিক্ষক ইনচার্জ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তার ধারণা, আসামিরা তার ছেলের সঙ্গে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছে, অথবা তাদের এমন কোনও ঘটনা দেখে ফেলেছে— যার কারণে ২০ ডিসেম্বর বিকাল সোয়া ৪টার থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে যেকোনও সময় এই তিন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন আসামি মুদাচ্ছিরকে হত্যা করেছে। ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য মরদেহ শিক্ষকদের টয়লেটে গামছা দিয়ে ভেন্টিলেশনের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।

মামলা দায়েরের প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ উল্যাহর পক্ষে তার আইনজীবী আবুল কালাম খান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘‘এ আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছা। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। জেল হাজতে থাকায় পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। যে কোনো শর্তে জামিনের প্রার্থণা করছি।’’

বাদীপক্ষে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রধান প্রসিকিউটর আলহাজ বোরহান উদ্দিন জামিনের বিরোধীতা করেন। তিনি বলেন,‘‘মাদ্রাসার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকালেও শিশুটি উৎফুল্লা, প্রাণচঞ্চল ছিল। হঠাৎ কি কারণে ৮ বছরের ওই শিশুকে বিকালে শিক্ষকদের টয়লেটে গলায় গামছা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রহস্যজনক । আসামিরা শিশুটিকে হত্যা করেছে। তার জামিনের বিরোধিতা করছি।’’

উভয়পক্ষের শুনানি নিয় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন।

এদিকে আসামির জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত হন মুদাচ্ছিরের বাবা জিয়াউর রহমান। আসামির জামিনে ক্ষুদ্ধ হন তিনি।

জিয়াউর রহমান বলেন, ‘‘আট বছরের বাচ্চা আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার ছেলে মশারির দড়ি পর্যন্ত বাঁধতে পারে না। সে গলায় ফাঁস দেয় কী করে। গামছায় যেভাবে গিট দেওয়া হয়েছে একজন বুঝমান ব্যক্তিও এরকম গিট দিতে পারে না।’’

অপর দুই আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করছে না।’’