রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়ায় বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে সিফাত উল্লাহ (২৭) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের বান্ধবী নাজিফা শেখ (২৩) জানান, বিকালে সিফাত তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় আসেন। এ সময় জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬-৭ জন ওই বাসায় ঢুকে সিফাতকে জোর করে ধরে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় হামলাকারীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় রাজিব ও ইয়াসিন নামে দুজনও আহত হন।
নাজিফা বলেন, গুরুতর আহত সিফাতকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, আহত রাজিব ওরফে রাব্বি ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি জানান, ওই বাসায় ‘অনৈতিক কাজ’ চলার খবর পেয়ে তারা সেখানে গেলে এক যুবক তাদের ওপর চড়াও হন। তারা এগিয়ে গেলে ওই যুবক ছুরিকাঘাত করেন। পরে ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে তারা আহত হন বলে দাবি করেন রাজিব।
নাজিফা জানান, ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা সিফাতের সঙ্গে তার দুই বছর ধরে সম্পর্ক। সামনে তাদের বিয়ের কথা চলছিল। তিনি বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী বলেও জানান। যে বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি তার বড় বোনের বাসা বলে দাবি করেন তিনি।
নাজিফার অভিযোগ, জয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি ওই বাসায় মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে সিফাত তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলেও দাবি করেন নাজিফা।
নিহতের এক বন্ধু জানান, সিফাত কাতারপ্রবাসী ছিলেন এবং সেখানে ব্যবসা করতেন। তাদের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।
সিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনা সম্পর্কে সবুজবাগ থানাকে অবগত করা হয়েছে।