ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে স্কচটেপ মারা অবস্থায় মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশা করছে তারা।
নিহতের পরিচয়ও শনাক্ত করেছে পুলিশ। তার নাম ইসমাইল হোসেন (৫০)। তিনি গাজীপুরের বাসিন্দা। মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। শুক্রবার এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। ইসমাইল জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
স্বজনরা জানান, ইসমাইলের একমাত্র মেয়ে শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। এ জন্য গ্রামের জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে গাজীপুরে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন তিনি। বাড়িতে ফিরেই মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার কথা ছিল তার। কিন্তু পথে কোনও এক জায়গা থেকে নিখোঁজ হন ইসমাইল।
ঢামেক হাসপাতালে মরদেহ শনাক্তের পর ইসমাইলের ছেলে হাসান জানান, তার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিল। সেগুলো পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। তখন তার মুখে স্কচটেপ মারা ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে ইসমাইলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইসমাইল ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। অসুস্থতার কারণে নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে থাকতেন। প্রায় চার মাস আগে তিনি জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে = যান। সেখানে তার মা ও বড় বোন থাকেন।
ইসমাইলের ছেলে হাসান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশে জামালপুর থেকে রওনা হয়েছিলেন বাবা। রাত ১১টার দিকে তিনি আমাকে ফোন করে জানান, সকালে পৌঁছাবেন। আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের কথা-বার্তা চূড়ান্ত করতেই তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন। বাড়িতে এসেই বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার কথা ছিল।’
হাসান বলেন, ‘বোনের বিয়ের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন বাবা। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ঋণ শোধ করেন। কিছু টাকা দিয়ে গ্রামে একটি ঘর দেন। বাকি ৫ লাখ টাকা নগদ এবং কিছু বাজার নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন। বাবার সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল। সেগুলো পাওয়া যায়নি।’
তিনি জানান, শুক্রবার সকালে গাজীপুরের জিরানীতে বাবার নামার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী জিরানীতে গিয়ে তাকে অনেকবার ফোন দিলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ বিষয়টি জামালপুর থানা পুলিশকে জানায়। সেখান থেকে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ পান তিনি।
এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গাড়িতে করে এনে লাশটি ফেলে দেওয়া হয়েছে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে গাড়ি শনাক্তের কাজ চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে।’
বনানী থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসমাইলের মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে জানা সম্ভব হবে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’









