পুলিশের খাবার পৌঁছানোর দৃশ্য বদলে দিলো নতুন ভ্যান

সোমবার দুপুর ১২টা বাজতে তখনও কিছু সময় বাকি। রাজধানীর বনশ্রীর জি ব্লকের ৫ নম্বর রোডে পুলিশ সদস্যদের অবস্থানস্থলের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ভ্যান। কৌতূহল নিয়ে সামনে এগিয়ে দেখা যায়, ভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের দুপুরের খাবারের টিফিন বাটি।

উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জানান, সম্প্রতি তাদের খাবার পাঠানোর জন্য এ ধরনের কিছু গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। আগের চিরাচরিত ট্রাকের ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। এখন এসব ভ্যানে করেই খাবার পাঠানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের খাবার পৌঁছানোর দৃশ্য বদলে গেছে নতুন এই ভ্যান যুক্ত হওয়ার পর। আগে পুলিশ লাইন থেকে খাবার পৌঁছে দিতে ছোট-বড় ট্রাক ব্যবহার করা হতো। এসব ট্রাকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের খাবার পৌঁছে দেওয়া হতো।

খাবার বহনকারী ট্রাকগুলোকে রাস্তার ধুলাবালি মাড়িয়ে যেতে হতো। অনেক সময় সেই ধুলাবালি খাবারের ওপরও পড়তো। সেই খাবারই খেতে হতো পুলিশ সদস্যদের। তবে সেই চিত্র বদলাচ্ছে। এখন পরিপাটি ভ্যানে করে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে খুশি পুলিশ সদস্যরাও।

ভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে খাবার। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

বনশ্রীতে খাবার নিয়ে আসা পুলিশ সদস্য সাখাওয়াত বলেন, ‘রাজারবাগ থেকে খাবার এনেছি। নতুন করে এই গাড়ি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিওএম (উত্তর) কাফরুলে দেওয়া হয়েছে দুটি গাড়ি, ডেমরা পুলিশ লাইনে দেওয়া হয়েছে একটি আর রাজারবাগে দুটি। কিছুদিন হলো এই গাড়িগুলো সংযোজিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগের যে খোলা ট্রাক এখনও আছে। কিন্তু এই গাড়িগুলো বাড়লে তা আর থাকবে না। এখন খুব ভালো পরিবেশে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে আমাদেরও ভালো লাগছে।’

জানা যায়, শুধু খাবার সরবরাহের গাড়িই বদলায়নি, খাবারের মানও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। সপ্তাহে দুদিন গরু, খাসি, মুরগি এবং মাছ—সবই থাকছে খাবারের তালিকায়। টাটকা রান্না হওয়ায় খাবারের গুণগত মানও ভালো। প্রতিদিন বাজার করার পাশাপাশি প্রতিদিনই রান্না করা হয়। কোনো বাসি বা নোংরা খাবার রান্না করা হয় না।

বনশ্রীর জি ব্লকে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, সেখানে তারা ১২ জন থাকছেন। থাকার পরিবেশও ভালো। তাদের জন্য তিন বেলার খাবার আসে। সকালের নাস্তায় সবজি ও ডিম থাকে। দুপুরে মাছ অথবা মাংস দেওয়া হয়। একইভাবে রাতেও মাছ অথবা মাংস থাকে।

তারা বলেন, যে খাবার আসে তাতে একজন পরিপূর্ণভাবে পেটভরে খেতে পারেন। কোনো সমস্যা হয় না।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই গাড়ি (ভ্যান) নতুন সংযোজন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি এখন রানিং হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এই গাড়ির সংখ্যা বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘এই গাড়িগুলো করে খাবার সরবরাহের ফলে খাবারে ময়লা পড়ে না। দ্রুতও যেতে পারে। ডিএমপির প্রতিটি লাইনেই এই গাড়ির সংখ্যা বাড়বে।’

খাবারের মানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা কঠোর অবস্থানে। খাবারের মান অনেক ভালো। মাছ, মাংস দেওয়া হয়। এক কথায় প্রোটিনের চাহিদা বিবেচনায় এখন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।’