গোয়েন্দা ব্যর্থতায় পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ

হত্যা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো নিয়মিত অপরাধ সামাল দিতে আগে থেকেই চাপে আছে পুলিশ। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকানো, আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে মাঠ কর্মকর্তাদের সরাসরি জবাবদিহির কঠোর নির্দেশনা। গুলশানের সাম্প্রতিক মিছিল সেই চাপকে আরও দৃশ্যমান করেছে। কয়েকশ’ নেতাকর্মী জমায়েতের খবর পুলিশ কেন আগে পেলো না—এই প্রশ্ন ওঠার পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও গুলশান বিভাগের ডিসিকে। এর মধ্যেই পুলিশের উচ্চপর্যায়েও এসেছে বড় রদবদল। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকানোর বাড়তি দায়িত্বে কি চাপে পড়েছে পুলিশ?

মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা অবশ্য বিষয়টিকে ‘চাপ’ বলতে নারাজ। তাদের মতে, পুলিশের চাকরিতে চাপ কিংবা চ্যালেঞ্জ নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো মোকাবিলা করাই তাদের কাজ। তবে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে থানায় সীমিত জনবল, দায়িত্বের বহুমুখিতা এবং আকস্মিক ঝটিকা মিছিল ঠেকানোর ক্ষেত্রে আগাম গোয়েন্দা তথ্য না থাকাকে—বড় চাপ বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একটি থানায় সব মিলিয়ে আনুমানিক ১২০ জন পুলিশ সদস্য থাকেন। তাদের মধ্যে নাইট ডিউটি, আদালতে সাক্ষী দেওয়া বা আসামি নিয়ে যাওয়া, ছুটি এবং অন্যান্য দায়িত্ব বাদ দিলে একই সময়ে মাঠে কাজ করার মতো সদস্য থাকেন এর অর্ধেক।

এক কর্মকর্তা বলেন, থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ডিউটিতে দুই থেকে তিন জন করে সদস্য থাকেন। এখন কোথাও যদি হঠাৎ ৪০ থেকে ৫০ জন এসে ঝটিকা মিছিল করে, এটা পুলিশ কীভাবে ঠেকাবে? বড়জোর হয়তো একজন-দুইজনকে ধরা যাবে, বাকিরা তো পালিয়ে যাবে। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি ঠেকাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আগাম গোয়েন্দা তথ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনও স্থানে জমায়েতের বিষয়ে আগে থেকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকলে সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে। আগাম তথ্য সংগ্রহ আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ইউনিটগুলোকেও তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তাদের মতে, ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলায়ও একই পুলিশ সদস্যদের কাজ করতে হচ্ছে। ফলে একটি দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অন্য এলাকায় যেন নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, এটাকে চাপ বলতে চাই না, চ্যালেঞ্জ বলতে চাই। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা আসছে, আমরা সেগুলো মোকাবিলা করছি।

কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতির আরেকটি দিক তুলে ধরেন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা অনেক কর্মকর্তা এখনও কর্মরত রয়েছেন। তাদের কারও কারও মাধ্যমে তথ্য ফাঁস হওয়ার সন্দেহও মাঠপর্যায়ে রয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করেছে। যারা ওই সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তারা তো এখনও আছেন। অনেকে আবার ভালো দায়িত্বেও রয়েছেন। তারাও নানাভাবে তথ্য ফাঁস করছেন। তবে তথ্য ফাঁসের সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেননি তিনি। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যেখানে পুলিশের উপস্থিতি থাকে না, তারা সেসব জায়গা বেছে নেয়। কোনও একটি ফাঁকা স্থানে এসে এক-দুই মিনিট মিছিল এবং ভিডিও তৈরি করে উধাও হয়ে যায়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন।

তার মতে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে বড় কোনও জমায়েত দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান করতে পেরেছে। তারপরও পুলিশ পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখছে না। তিনি বলেন, পুলিশ হতাশ নয়। পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

‘পুলিশের চাকরিটাই চ্যালেঞ্জিং’

রমনা বিভাগের উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমরা কোনও চাপ অনুভব করছি না। পুলিশের চাকরিটাই চ্যালেঞ্জিং। আমাদের ঊর্ধ্বতনরা যখন যে নির্দেশনা দেন, আমরা সেটা পালন করি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা রাত জাগি, আসামি ধরি। এটাই আমাদের কাজ। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে যখন যা প্রয়োজন, আমরা তাই করি।’’

বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল ইসলাম তালুকদারও বর্তমান পরিস্থিতিকে চাপের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘‘চাপ না, চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা সবসময় চ্যালেঞ্জেই অভ্যস্ত। থানা এলাকায় যখন কোনও ঘটনা ঘটে—তখন অপরাধী ধরাই আমাদের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এখন যে সময়ের কথা বলছেন, এ রকম চাপ বা চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমরা চাকরি করে আসছি।’’ তার দাবি, পুলিশ মনোবল হারায়নি। আমরা সবসময় যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

গুলশানের মিছিলেই চাপ বেড়ে যায়!

পুলিশের ওপর বর্তমান চাপ ও জবাবদিহির আলোচনা সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে।

সেদিন গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে বলে পুলিশ দাবি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

ওই ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই মামলায় ৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক এলাকায় এত মানুষের জমায়েতের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আগে থেকে ছিল কিনা। যদি না থাকে, তাহলে গোয়েন্দা নজরদারিতে ঘাটতি ছিল কিনা। আর তথ্য থাকলে কেন আগাম ব্যবস্থা নেওয়া গেল না—এমন প্রশ্ন সবার।

এই বিতর্কের মধ্যেই ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে প্রত্যাহার করে ডিএমপির কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দফতরে সংযুক্ত করা হয়। পরে একই দিন গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকেও ডিএমপির সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

গুলশান ঘটনার পর পুলিশের মাঠ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও সামনে এসেছে আরও জোরালোভাবে। ১৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠ কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সভা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল ও তৎপরতা কোনও এলাকায় ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিভাগের ডিসি ও থানার ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

কর্মকর্তাদের সতর্ক করতে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘‘থানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও এলাকার স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ওসির কাজ। থানার ভেতর মশায় কামড়ালেও ওসির জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। একটি মশা মারা গেলেও তা ওসিকে জানতে হবে।’’

একই সভায় অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি সাজানোর কথা বলা হয়, যাতে নিরাপত্তায় কোনও ‘শূন্যতা’ না থাকে।

আবাসিকসহ বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানকারী অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সেই তথ্য দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে মাঠ পুলিশকে এখন শুধু ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্ত নয়, অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য তৎপরতা শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের বদলি ও পদোন্নতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার মোট ১১ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক সায়েদুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মাইনুল হাসানকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি কামরুল আহসান পদোন্নতি পেয়ে যথাক্রমে পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমীনকে পুলিশ অধিদফতরে এবং সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্য প্রজ্ঞাপনে পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক, এসবির ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং মেট্রোরেলের ডিআইজি সিদ্দিকী তানজিলুর রহমানকে বিশেষ শাখার ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই রদবদলকে গুলশানের ঘটনার সরাসরি পরিণতি কিনা তা জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘিরে পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের মতে, ওই সময়ের ঘটনায় পুলিশের মধ্যে যে মানসিক ধাক্কা ও পেশাগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে কিনা সেই প্রশ্ন এখনও রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর আগের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা সংশয় কাজ করতে পারে বলে মনে করেন তারা। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাড়লে সরকার স্বাভাবিকভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে আরও কার্যকর প্রতিরোধ চাইবে। ফলে যেখানে এমন ঘটনা ঘটছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির চাপও বাড়ছে।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. কুদরাত-ই-খুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে পুলিশের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে চাপে থেকে পুলিশ তার কাজ করতে অভ্যস্ত। বর্তমান সময়ের চাপ নিয়ে পুলিশ কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সেটিও কিন্তু দেখার বিষয়।’’

চাপ নতুন কিছু নয়

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতিকে পুলিশের জন্য অস্বাভাবিক কোনও চাপ হিসেবে দেখছেন না। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের ওপর চাপ নতুন কিছু নয়। বর্তমান সময় আমার কাছে ওই রকম কিছু মনে হচ্ছে না। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেই টিকে থাকবে।’’

গুলশানের ঘটনার পর তৈরি হওয়া আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘লোকজন তো অনেক কিছু বলবে। একটি ঘটনা ঘটে গেলে নানা রকম আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এখন তো পুলিশ চাপমুক্ত থাকার কথা। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে হয়তো পুলিশ সিরিয়াস ছিল না।’’

মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘চাপ’ নয়, এটি তাদের পেশাগত ‘চ্যালেঞ্জ’। আবার বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, আইনশৃঙ্খলার পুরোনো চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা চ্যালেঞ্জ যুক্ত হওয়ায় পুলিশের ওপর বাস্তবিক অর্থে চাপ তৈরি হচ্ছে।