অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকম-এর বিশেষ প্রতিবেদক এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ নঈমুদ্দীনের বাসায় চুরির মামলা থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশের পর এবার তদন্ত পেলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। আগামী ২৯ অক্টোরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।
পল্টন থানার ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের বাসায় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর ভোররাতে চুরির ঘটনাটি ঘটে। চোরেরা বাসা থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরদিন পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক নঈমুদ্দীন।
মামলার তদন্তে গিয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার গাছুয়া গ্রামের এক নারীর কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করে। তবে চুরির রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। মহিলার কাছে কীভাবে চোরাই মোবাইল গেলো, তা গভীরে তদন্ত করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই বাবলুর রহমান বদলি হলে তদন্তভার পড়ে এসআই বিমান তরফদারের উপর। তিনিও চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরদের নাম-ঠিকানা উদঘাটন ও গ্রেফতার করতে না পারায় ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারাজি জমা দিলে আদালত তা মঞ্জুর করে মহিলার কাছে কীভাবে চোরাই মোবাইল গেলো তা অনুসন্ধান করে বের করার নির্দেশনা দিয়ে ডিবি পুলিশকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তভার পান ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই আমিনুর রহমান।
তবে তিনি বাদী নঈমুদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, আসামি গ্রেফতার করতে না পারায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এবারও আদালতে নারাজি দেন সাংবাদিক নঈমুদ্দিন। নারাজিতে চোরাই মোবাইলের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে কোনও উদ্যোগ না নেওয়া, বাদীর সঙ্গে কথা না বলা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করা, এমনকি আগের বিচারকের নির্দেশনা প্রতিফলিত না হওয়াসহ দায়সারা রিপোর্ট দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার অবহেলা আছে মর্মে উল্লেখ করেন। বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম (রিজভী) শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদেশে বিচারক বলেন, “মামলার অধিকতর তদন্ত হওয়া আবশ্যক মর্মে প্রতীয়মান হয়। মামলাটি পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো।”
এ বিষয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন বলেন, “পল্টন মডেল থানার ঠিক অপজিট পাশে চুরির ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ এক নারীর কাছ থেকে চোরাই মোবাইল উদ্ধার করলেও তিনি কার কাছ থেকে মোবাইলটা পেয়েছেন তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বরং মহিলাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে প্রকারান্তরে অপরাধীর পক্ষ নিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিলে আমি নারাজি দাখিল করি। এরপর ডিবি পুলিশ মামলার তদন্তভার পায়। তারাও আমার সঙ্গে কোনও প্রকার যোগাযোগ না করেই সঠিক তদন্ত ছাড়াই আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে দিলো।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “মালামাল উদ্ধারের সঙ্গে আমি মূলত চেয়েছিলাম, জড়িত সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে শনাক্ত করে পুলিশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। কিন্তু একজন সাংবাদিকের মামলা নিয়ে দুই তদন্ত সংস্থা যা করেছে তাতে আমি হতাশ। তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে। কতটা হয়রানির শিকার হতে হয় সহজে অনুমেয়। এমন হয়রানির জন্যই অনেকেই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করেন না।”
তিনি বলেন, “আশা করি পিবিআই মহিলার কাছে কীভাবে চোরাই মালামাল গেলো তা বের করার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার চোর চক্র শনাক্ত করে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।”