বাংলা ট্রিবিউনে গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাঠানো এক প্রতিবাদলিপি ও ব্যাখ্যায় এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলা ট্রিবিউনে ‘বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা কি এপিবিএনের অবহেলায়?’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি এপিবিএনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রকাশিত সংবাদটি প্রকৃত চিত্রের বিপরীত হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদক নিজেই নিশ্চিত নন, তা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে প্রতিবেদক অন্য কোনও গোষ্ঠীর আনুকূল্য ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এককেন্দ্রিক দোষে দুষ্ট ও পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রতিবেদনে যেসব বিষয়ের অবতারণা করেছেন, তাতে যে কোনও ব্যক্তির নিকট সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে যে এটি এপিবিএনকে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য করা হয়েছে।’
ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বিদ্যমান আইন, বিধি ও আইসিএও-এর নির্দেশনা এবং সরকারি আদেশ ইত্যাদির মাধ্যমে এপিবিএনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনা করা হয়েছে। নতুন করে এপিবিএনের দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। বহিরাঙ্গনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এপিবিএন নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রতিপালনের চেষ্টা করে থাকে। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে যাত্রী ও স্বজনদের এক কাতারে বিবেচনা করায় এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত না করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। অপরদিকে, তিনি এপিবিএনের পুলিশ সুপারের খণ্ডিত বক্তব্য উদ্ধৃত করায় প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়নি, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।’
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, ‘যাত্রীদের স্বজনদের (প্রতি জনে দুইজন) বসার স্থান, যাত্রী ওঠানামা, গাড়ি পার্কিংয়ের অপ্রতুলতা, শিডিউল অনুযায়ী বিমানের যাত্রী হ্রাস-বৃদ্ধি, চেকিং, বিমানবন্দরের অপরাধের চিত্র ইত্যাদি বিষয়ে বিদ্যমান সমস্যা উল্লেখ না করে এপিবিএনকে দায়ী করার অর্থ হচ্ছে প্রকৃত চিত্র ও চ্যালেঞ্জ থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ধাবিত করা। আমরা প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের মনগড়া কোনও বক্তব্য নেই। এখানে অন্য গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। গত ৬ আগস্ট বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সভায় উপস্থাপন করা হয় যে, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে এপিবিএন কর্তৃক একাধিক নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকি স্থাপিত রয়েছে। সাধারণ যাত্রী, দর্শনার্থী এবং অন্যান্য আগত ব্যক্তিদের বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশের সময় যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা যাচাই করার বিধান থাকলেও দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যের কারণে বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যক্তি বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে।’
ওই বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণেও এপিবিএনের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।
বৈঠকের এই দুটি নোট এই প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। বৈঠকের এই নোটের সূত্র ও সরেজমিনেও বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিমানবন্দরে দুই জনের বেশি লোকসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি, দালাল, এমনকি সিএনজি ক্যানোপির ভেতরে দাঁড় করিয়ে যাত্রী ডাকছে—এমন বিষয়ও পরিলক্ষিত হয়। বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে যেখানে যেখানে এপিবিএনের ডিউটি স্পট রয়েছে, তার আশপাশেই সিএনজিগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করানো থাকে। এটি যেমন দিনে, তেমনি রাতের বেলাতেও। এছাড়াও এপিবিএনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।