রাজধানীর মিরপুরে দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল হত্যা মামলায় ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন। এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে রাসেল হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন শেখ সাদী। ওই বিষয়ে তিনি সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
জেরা শেষে আগামী ১ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া। মামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
২০২২ সালের ২৭ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শাম্মী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ওইদিনই মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
আসামিরা হলেন, মো. রায়হান ওরফে সোহেল আপন, রাসেল হোসেন হাওলাদার, আরিয়ান খান হৃদয়, সোলায়মান ও রিপন। পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আহমেদ মাহী বুলবুল দন্ত চিকিৎসক ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। তিনি ঠিকাদারি কাজের জন্য নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশে ২৭ মার্চ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা হন।
পশ্চিম কাজীপাড়ার নাভানা ফার্নিচার শোরুমের সামনে প্রধান সড়কে পৌঁছালে আসামি রিপন ও রাসেল রিকশাটির গতিরোধ করে তার কাছে যা যা আছে, তা দিয়ে দিতে বলেন। না দিলে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখান। বুলবুল মোবাইল ফোন দিতে না চাইলে রিপন তার ঊরুতে আঘাত করে জখম করে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় বুলবুল গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান। ছিনতাইকারীরা চিকিৎসক বুলবুলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে। পরে তা পাঁচ ছিনতাইকারী ভাগ করে নেয়।
২০২৩ সালের ২৬ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।