কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তা ও ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত দেবনাথের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৫০ জনের একটি দল বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তারা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ ছাড়া কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনায় বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং তাদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য পরবর্তী সময়ে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।