রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলচেষ্টার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুুলিশ জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ- কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিং এলাকার একটি অফিসে ঢুকে হামলা-ভাঙচুর করে জমি দখল চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে জয়নাল আবেদিন বলেন, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী মোহাম্মদপুর টুইন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় আমাদের অফিসের দরজা, তালা, জানালা ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অফিসের বিভিন্ন কক্ষ-স্টোররুম তল্লাশি করে নগদ ১৫ লাখ টাকা, ৫টি ল্যাপটপ, দুটি এসি, তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরাসহ অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ট্রাকে করে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, কিছুদিন ধরে মো. মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী (৬২), মহিন, প্রিন্স ও আলামিন স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আমাদের অফিস দখল করার পাঁয়তারা করছে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাগজপত্র ও তথ্য হারানোর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মালামাল হারিয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।
এদিকে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদাবরের একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় ৬ জনতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা টাকার বিনিময়ে বাড়িতে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন।
এর আগে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির মূল ফটকে চাপাতি ও রামদা দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে।
বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান খান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা মনির হোসেন।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান আদাবর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় খুরশিদ আলম খান, হাবিবুল্লাহ ওরফে রাসেল, কালাম, কামরান হোসেন, মিজানুর রহমান, সজীব হোসেন, হাসিবুল হাসান ওরফে ইমন, তানভীরসহ ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাতনামা।