রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর-লুটের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২ আসামি কারাগারে

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় গ্রেফতার আরও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

পুলিশের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— মো. মিন্টু (৩৫) ও মো. মিলন (৪৫)। 

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে আইনজীবীর নিবেদন মতে জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।”  

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে পৃথক দুই আবেদনে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান। 

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামি মিন্টু বাংলাদেশের কোথাও জমি-জমা, ঘর-বাড়ি নেই। ঢাকা শহরে ভাসমান বসবাস করে। মামলার তদন্তকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেল হাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পাইলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

আরেক আবেদনে বলা হয়, আসাম মো. মিলনকে গ্রেফতার করার সময় বাম হাতের মাঝের তিন আঙ্গুলে ব্যান্ডেজ অবস্থায় পাওয়া যায়। আসামির ব্যান্ডেজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে জানায় যে, গ্রেফতার দুই-তিন দিন পূর্বে বাসায় এসির কাজ করতে গিয়ে হাতে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। 

গত ২৬ সেপ্টেম্বর চার জন এবং গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় আরও ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলায় ১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও বলা হয়, তারা পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।  এতে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়, এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৫টি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায়  উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। 

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় দায়ের করা এজাহারে মো. হানিফ মিয়াসহ(৫০) অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।