সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর: আরও দুই জন কারাগারে

আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার আরও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।  

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তারেকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।  

আসামিরা হলেন— মো. শাহ আলম (৪৭) এবং মো. আবুল আশেম (৫৩)।  

এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।  

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তের বিঘ্ন হওয়ার সমুহ সম্ভবনা আছে। আসামির জামিনের ঘোর বিরোধিতা এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মামলা তদন্ত কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। 

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।  

এর আগে একই মামলায় গ্রেফতার আরও তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।  

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটায় ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী জনতাবদ্ধ হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এসময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।  

আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। 

এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।