এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুরকে এবার রিমান্ডে চায় ডিবি

জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা মামা ওবায়দুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ডিবি পুলিশ। 

ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ওবায়দুরের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ১ অক্টোবর আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রেখেছেন। 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য দিয়েছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এ আসামি মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মরিয়মের বিবাহের আগে থেকে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযুক্ত থেকে এ আসামি তাদের বিবাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসতেছিল মর্মে তদন্তকালে তদন্তকালে জানা যায়।

নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেফতারের পরে যে পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছিল থানা পুলিশ, ঠিক সেই একই কারণ দেখিয়ে ওবায়দুরকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছেন তদন্তকর্তা ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তার মধ্যে রয়েছে, মরিয়ম ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় এজাহারনামী আসামিরা বাসায় ছিল। মরিয়মের আত্মহত্যায় তাদের প্রভাব আছে কিনা তা উদঘাটন। মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদঘাটন। 

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। 

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা ইসলামের  একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রথম দফায় মাকছুদা ইসলামের ২১ সেপ্টেম্বর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।