সম্পদের তথ্য গোপন করে সাজা পেলেন সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের নিরাপত্তা শাখার সাবেক নিরাপত্তা অপারেটর হিরণ মিয়া এবং তার স্ত্রী রুনা লায়লা। হিরণ মিয়াকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী রুনা লায়লাকে দেওয়া হয়েছে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান স্ট্রেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান।
দুদক প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি হিরণ মিয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর স্ত্রী রুনা লায়লাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অর্থ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।’
আসামিদের মধ্যে হিরণ আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রুনা লায়লা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ট্রেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে দুদক হিরণ দম্পতিকে সম্পদের হিসাব দিতে নোটিশ দেয়। নোটিশ পেয়ে ১১ জুন তারা সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেন। দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে হিরণ ২৩ লাখ ২ হাজার ৪৪৪ টাকার সম্পদ গোপন এবং ২ কোটি ৯১ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৩ টাকার সম্পদের মধ্যে ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩৩ টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেন।
আর রুনা লায়লা সম্পদের হিসাব বিবরণীতে ২১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৪ টাকার সম্পদ গোপন করেন ২ কোটি ৭৭ লাখ ৬৮ লাখ ৬৫৭ টাকার সম্পদের মধ্যে এক কোটি ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৬০ টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেন।
এ অভিযোগে দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক নাসির উদ্দিন ২০২৯ সালের ২৭ নভেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে কমিশনের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের ১৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। হিরণ মিয়া নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। রুনা লায়লা পলাতক থাকায় শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। তবে হিরন মিয়া আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান। আত্মপক্ষ শুনানি শেষে আজ আদালত থেকে সাজার রায় এলো।