রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে ‘নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির মামলায় গ্রেফতার মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সোমবার বিকালে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মিজানুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী শওকত হোসাইন জামিনের আবেদন করে বুধবার শুনানির জন্য সময় চান। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির দিন বুধবার ধার্য করেন।
এর আগে সোমবার একই মামলায় শাহরিয়ার মাহমুদ ও শাহ আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়। রোববার মো. মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানিও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যেভাবে হামলা ও লুটপাট
ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিশ’ স্টুডিও, প্রকল্পের অফিসসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
পুলিশের ধারণা, জমি নিয়ে এক আবাসন নির্মাতা ও এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেন। তারা প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিশ’ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক ক্যাবল, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। পাশাপাশি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
মামলায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ভাঙচুর ও লুটপাটে তাদের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া শনিবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় মিজানুর রহমান গ্রেফতার