মিরপুরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের মামলায় ২৫ আসামি কারাগারে

রাজধানীর মিরপুরে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপরে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার ২৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন মো. রুবেল (৪২), মো. কাউসার (২১), মো. ফারুক (৩৬), ফজলে রাব্বি (১৯), সাঈদ আলম (৪৫), ইসরাফিল প্রকাশ রহিম (২৫), কবির (২৬), আনোয়ার হোসেন (৪২), মো. সেলিম (৪২), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), সিয়াম (২২), মো. জুনায়েদ (২১), মো. সুজন (৩৬), মো. রাজিব (২৬), সিফাতুল্লাহ (২২), ফজলে রাব্বি (২০), নোমান (১৯), জিহাদ (১৯), মো. কাশেম (৪২), মো. আরিফ শেখ (১৯), মো. আব্দুল কাদের (২৮), মো. জহির শেখ (৩৫), মোসাদেকুর রহমান প্রকাশ মারুফ (২১), রাতুল শেখ (১৮) এবং মো. তাজুল ইসলাম (৪৮)।

এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. সামছুদ্দৌহা। 

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২ (মিরপুর) এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগ নেলীর নেতৃত্বে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন বাইতুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশে ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ম্যাজিস্ট্রেট ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটপাতের হকারদের দোকানে আগুন দিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য মতে, এ সময় দুষ্কৃতকারীরা সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি বাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও বলা হয়, স্পেশাল-৭১ দায়িত্বে নিয়োজিত একটি পিকআপ ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সেটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পিকআপ ভ্যানটির সামনের ও পেছনের কাচ, বোনেট, ডান পাশের দরজার কাচ, দুই পাশের দরজা, ব্যাকডালা ও বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  ইটপাটকেলের আঘাতে পিকআপ ভ্যানের চালকসহ পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। এছড়া দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একত্রিত হয়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট এবং বড় ধরনের ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করেন। তারা পুলিশের কাজে বাধা দেন, পুলিশ সদস্যদের আঘাত করেন এবং সরকারি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। তাদের জামিনে মুক্তি দিলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।