ছাত্রদল নেতা সাগরসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা, গ্রেফতার ৪

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ বাবুসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। চম্পা বেগম নামের এক নারী গত ৫ অক্টোবর মামলাটি করেন। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছেন এসআরবি-১-এর সদস্যরা। তবে মামলার প্রধান আসামি সাগর আহমেদ বাবুসহ ১২ জন পলাতক রয়েছেন।

মামলায় গ্রেফতারকৃত চার জন হলেন—মো. সাকিব হোসাইন (২৮), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে মারুফ (৩৩), মো. হানিফ (২১) ও মো. ইমরান ফরাজী (২৬)। এ ছাড়া সাগর আহমেদ বাবু, মোজাম্মেল, সজিব, জিলানী, লিংকন, মাসুম, স্বপনীল, আরাফাত, সোহাগ, আসাদ, সজিব ও সোহাগকে আসামি করা হয়েছে।

উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রেফতার চার জনকে আমাদের থানায় হস্তান্তর করেছে এসআরবি। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তবে রিমান্ড শুনানি হয়নি। পরবর্তী তারিখে রিমান্ড শুনানি হবে।’

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ৫ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে চম্পা বেগমের ভাই শরিফুল ইসলাম (৩৫) উত্তরার বাসা থেকে বের হন। এরপর তার কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজন ও বন্ধুদের কাছে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এজাহারে বলা হয়, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিটে শরিফুলের মোবাইল নম্বর থেকে চম্পা বেগমের নম্বরে ফোন করে আসামিরা জানান, উত্তরার নবাব হাবিবুল্লাহ কলেজের সামনে থেকে শরিফুলকে অপহরণ করে উত্তরা পূর্ব থানার সেক্টর-৬-এর রোড নম্বর ৯-এর ৪ নম্বর বাড়ির ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস স্কুল ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে মুক্ত করতে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শরিফুলকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও ফোনে জানানো হয়।

চম্পা বেগম এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, তিনি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৩ মিনিটের মধ্যে শরিফুলকে মারধর ও হত্যার ভয় দেখিয়ে তার নিজের নেক্সাসপে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর করে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি হিসাবে ৩ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের একটি হিসাবে ২ লাখ টাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাবে তিন দফায় ৩ লাখ, ৩ লাখ ও ৫০ হাজার টাকা—মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এ ছাড়া শরিফুলের কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আসামিরা শরিফুলকে মুক্তি দেয়নি। বরং আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং তাকে আরও বেশি শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। রাত ৯টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত আসামিদের সঙ্গে চম্পা বেগমের কথা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার এসআরবি-১-এর টহলরত সদস্যদের দেখতে পেয়ে চম্পা বেগম তাদের বিষয়টি জানান এবং ভাইকে উদ্ধারে সহযোগিতা চান।

পুলিশের এজাহারভুক্ত বর্ণনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১-এর সদস্যরা শরিফুলকে আটকে রাখার স্থান শনাক্ত করেন। রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে চম্পা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ওই ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে চার জনকে আটক করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদ বাবুসহ ১২ জন পালিয়ে যান।

পরে শরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা, তিনটি ভিসা কার্ড ও একটি রূপালী ব্যাংকের এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শরিফুলকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করেছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ বাবুর বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে উত্তরায় তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।