বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি পেছালো

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ মামলায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক (সাময়িক বরখাস্ত) এনামুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানা এই দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী ইশতিয়াক হোসেন জনি।

আসামি এনামুল হোসেন ২ জুলাই জামিন পান। গত ১২ সেপ্টেম্বর বাদীকে একা পেয়ে মারপিট করে মামলা তুলে নিতে বলেন। এ অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই তরুণী। তার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে জানিয়ে আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।  আদালত এ বিষয়ে শুনানির দিন রাখেন ১৩ অক্টোবর।

এদিন জামিন বাতিলের বিষয়ে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, মো. শামছুজ্জামান দিপু এবং বাদীপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মহসিন মিয়াসহ কয়েকজন জামিন বাতিলের বিষয়ে শুনানি করেন।

আসামির পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জামিন বহাল রাখার প্রার্থনা করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী তানজিল আহমেদ জানান, আদালত আগামী ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন পর্যন্ত আসামির জামিন বর্ধিত করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কলেজ ফ্রেন্ডের মাধ্যমে তিন বছর আগে ওই  তরুণীর সাথে এনামুল হোসেনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে এনামুল বিভিন্ন সময়ে মামলার বাদী ওই তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মে রাতে এনামুল ওই তরুণীকে কলাবাগানের পান্থপথের একটি হোটেলে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

পরে ওই তরুণী এনামুলকে বিয়ের কথা বললে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। এখন বিয়ে করা সম্ভব নয় জানিয়ে এনামুল তাকে জানান, সময় সুযোগ হলে বিয়ে করবেন। এরপর একাধিকবার ওই তরুণী বিয়ের জন্য অনুরোধ করলে এনামুল বলেন, ‘‘তুমি আগে মাহবুব এ রাব্বানী নামে একজনের সাথে প্রেম করেছিলে। তার সাথে তোমার অন্তরঙ্গ ছবি আছে, যা আমার কাছে আছে। বিয়ের জন্য বেশি চাপাচাপি করলে ছবি ভাইরাল করে দেবো।’’ এরপর থেকে এনামুল তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তরুণী যোগাযোগ করলে তাকে এড়িয়ে চলেন।

এ ঘটনায় ওই তরুণী গত বছরের ২৪ নভেম্বর কলাবাগান থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে এনামুলকে অভিযুক্ত করে গত ৩১ মে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ইন্সপেক্টর নাজমা আকতার।