দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেবে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হকের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
ফলে ফজলুল হকের দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে রিটকারী আলাউদ্দিন আল মাসুমকে ১৬ নভেম্বর তলব করেছেন আপিল বিভাগ।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম।
গত ২৬ জুলাই মো. ফজলুল হককে ১২০ দিনের জন্য এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার অফিস আদেশে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক সরকারের অনুমোদনক্রমে এফবিসিসিআইর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা এবং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের স্বার্থে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হককে ‘দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)’ এর প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। তিনি ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে এ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।
এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আলাউদ্দিন আল মাসুম। ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ফজলুল হক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব নেবেন এবং চার মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আবেদন করেন বাণিজ্য সচিব।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দেশ এবং আদেশ দিতে পারবেন না, যেটা কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ আইনগতভাবে করতে বাধ্য নয়। আজকে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের এই আদেশটি স্থগিত করেছেন। এই স্থগিত আদেশের অর্থ হলো যে, এফবিসিসিআইর জন্য সরকার কর্তৃক গঠিত যে প্রশাসক এবং তাকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন করা এবং আইনসিদ্ধভাবে এটা সরকারের পক্ষে সুযোগ আছে। এ সময়টি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। ফজলুল হক কর্তৃক দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা থাকলো না।
রিট পিটিশনার এর আগে এফবিসিসিআই নিয়ে কয়েকটি রিট করেছেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ আলাউদ্দিন আল মাসুমের কন্ডাক্টটা আমরা চেম্বার বিচারপতির সামনে আজকে উল্লেখ করেছি। চেম্বার বিচারপতি তার যে আদালতকে বিভ্রান্ত করা কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আদালত অবমাননা শামিল কর্মকাণ্ডের জন্যে তাকে আগামী ১৬ নভেম্বর সশরীরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।