বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর কালিতলা গ্রোয়েন, দীঘলকান্দি হার্ডপয়েন্ট (প্রেম যমুনার ঘাট) ও দেবডাঙ্গা ফিসপাস ভ্রমণপিপাসীদের কাছে দিনদিন প্রিয় হয়ে উঠছে। ঈদসহ বিভিন্ন ছুটি কাটাতে নানা বয়সের নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় করেন। বর্ষাকালে এখানে জনসমাগম বেশি ঘটে। এবার ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদে কালিতলা গ্রোয়েন, প্রেম যমুনার ঘাট, দেবডাঙ্গা ফিসপাস এলাকায় সমাগম হয়েছিল অসংখ্য পর্যটকের। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ভটভটি, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে তারা স্পটগুলোতে এসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় তেমন কোনও কষ্টও পোহাতে হয়নি। পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী ও খাবারের দোকান বসে। অনেকেই নৌকা ও স্পিডবোটে যমুনা নদীতে ভ্রমণ করেন। দর্শনার্থীদের আগমনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাঝিদের বাড়তি আয় হয়।
বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার নব-দম্পতি আশিক ও রুমানা এসেছিলেন প্রেম যমুনার ঘাটে। তারা জানান,সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর এ স্পটটি তাদের খুব প্রিয়। সুযোগ পেলেই তারা এখানে ছুটে আসেন ও নৌকা ভ্রমণ করেন। তবে তারা অভিযোগ করেন,এখানকার গ্যারেজের লোকজন পর্যটকদের খুব বিরক্ত করেন। জোর করেই তাদের গ্যারেজে গাড়ি রাখতে বাধ্য করেন এবং ইচ্ছামত টাকা আদায় করেন।
কালিতলা গ্রোয়েনে কথা হলো গাবতলীর রামেশ্বরপুর গ্রামের কলেজ ছাত্র রুম্মান শেখ ও তার স্ত্রী খুশি শেখের সাথে। সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েন তাদের খুব প্রিয় বলে জানান তারা।
দেবডাঙ্গা ফিসপাসে কথা হয়বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী গ্রামের ব্যবসায়ী আহমেদ আলীর সাথে। তিনি স্ত্রী,দুই ছেলেমেয়ে, বোন ও শ্যালিকাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। তারা জানান,শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা বিনোদন পার্কে পরিবেশ তেমন ভালো নয়;তাই তারা এখানে এসেছেন। দিনভর নদীর তীরে হাঁটাহাটি ও নৌকা ভ্রমণ করেছেন। দুপুরে সাথে নিয়ে আসা খাবার খেয়েছেন। দোকান থেকে বাচ্চাদের বেলুন, গাড়ি ও অন্যান্য খেলনা কিনে দিয়েছেন।
এ তিনটি স্পট ছাড়াও বগুড়া শহরের ওয়ান্ডারল্যান্ড, মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, পুন্ড্রনগরী মহাস্থানগড়সহ বিভিন্ন বিনোদন পার্কে প্রচুর পর্যটক ভিড় করে এবার ঈদের ছুটিতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
/এনএ/