‘যতদিন রবে পদ্মা যমুনা
গৌরী মেঘনা বহমান,
ততকাল রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান...’
বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এভাবেই কবিতার ভাষায় পৃথিবীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কবি অন্নদাশঙ্কর রায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আখ্যায়িত করা হয় ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ হিসেবে। তার পুরো জীবনই ঘটনাবহুল। আর এর পুরোটা জানা মানেই যেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেকখানি জেনে ফেলা! মহান এই নেতা এবং আমাদের স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের আধারে সপরিবারে হত্যা করা হয়। মহান এই বাঙালির স্মৃতিতে ১৫ আগস্ট শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়, দেশজুড়ে থাকে সরকারি ছুটি।
এই ছুটির দিনটিকে কাজে লাগাতে পারেন এই মহান নেতার জীবন ও ইতিহাস জানার প্রতি উৎসর্গ করেই। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তার অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা জানান আপনার সন্তানকে। এদিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত আবাসস্থল বা সমাধিস্থলে আপনার সন্তানকে নিয়ে যেতে পারেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ধানমণ্ডি ৩২
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর রাজধানীর ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের বাড়িটিই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এ বাড়িটিতে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের অন্য সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৭ সালে এই বাড়িটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের বিভিন্ন দুর্লভ ছবি এবং শেষ সময়ের অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত। এই টুঙ্গিপাড়াতেই ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের দিন ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিবেশী, ছেলেবেলার বন্ধুরা তাদের প্রিয় ‘মিয়া ভাই’কে জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করেন। এই সমাধিসৌধের কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে পাঠাগার, গবেষণাকেন্দ্র, প্রদর্শনী কেন্দ্র, মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুক্ত মঞ্চ, বকুলতলা চত্বর ও স্যুভেনির কর্নার। মাজার কমপ্লেক্সের পাঠাগারে দেড় হাজারেরও বেশি বই রয়েছে।
/এনএ/