খাবারের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক হোক ইতিবাচক, জেনে নিন ৬ পরামর্শ

তিন বছর বয়সী ফারহান বেশ দুরন্ত। খেলাধুলায় যেমন তার আগ্রহ, তেমনি আগ্রহ বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্রতি। তবে শুধু আগ্রহের ঘাটতি দেখা যায় একটি বিষয়েই- সেটা হচ্ছে খাওয়া। খাবার দেখলেই যেন সে চুপসে যায়। কোনোভাবে মুখে খাবার দিলেও সেটা গিলতে চায় না কোনোভাবেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখে খাবার নিয়েই সে কাটিয়ে দেয়। এতে ফারহানের বাবা-মা দুজনেই বেশ বিরক্ত আর হতাশ। কীভাবে সন্তানকে খাবারের প্রতি মনযোগী করে তুলবেন- সেটা ভাবতে ভাবতেই দিশেহারা দুইজন। 

ফারহানের মতো এমন আচরণ করে অনেক শিশুই। অথচ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবারের কোনও বিকল্প নেই। একজন মানুষের স্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে শিশু বয়সের খাবার থেকেই। তাই শিশুকে অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা ভীষণ জরুরি। খাবারের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ। জেনে নিন সেগুলো কী কী। 

১।  শিশুরা বাবা-মাকে অনুকরণ ও অনুসরণ করে। তাই সবার আগে বাবা-মাকে স্বাস্থ্যকর খাবার, পানীয় এবং স্ন্যাকস বেছে নিতে হবে নিজেদের জন্য। টেবিলে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা সন্তানের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। খাবার কেনাকাটা এবং রান্নার প্রক্রিয়ায় শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন। পরিবারের জন্য সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করতে দেখে শিশুও আগ্রহী হবে খাবারের প্রতি। 

২। খাবারের সাথে শিশুর যেন স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক সম্পর্ক থাকে। পুরষ্কারহিসেবে শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখাবেন না। একইভাবে কোনও শাস্তির অংশ হিসেবেও শিশুকে কোনও খাবার খেতে বাধ্য করা অনুচিত। এভাবে খাবার ব্যবহার করলে শিশুর খাবারের সাথে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। শিশুকে খাবার খাওয়ানোর আগে বুঝে নিন যে সে যথেষ্ট ক্ষুধার্ত কিনা। অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানীয়কে একেবারেই না বলার পরিবর্তে সেগুলো সীমিত পরিমাণে দিতে পারেন। যেমন কিছু খাবার সে খেতে পারবে তবে প্রতিদিন নয়, মাঝে মাঝে- এভাবে বোঝান। শিশুকে খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে গল্পচ্ছলে বলুন। 

৩। শিশুর প্লেটের সব খাবার পুরোপুরি শেষ হবে এমন আশা রাখবেন না। শিশু কোনও পুষ্টিকর খাবার খেতে না চাইলে জোর করবেন না। বরং সেই খাবার আপনি খুব উপভোগ করছেন এমন আচরণ করুন। মনে রাখবেন, আপনার ছোট্ট শিশুটি আপনার কাছ থেকেই খাবারের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে শিখেছে। ফলে যতটা সম্ভব তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করুন। শিশুর খাবারের সাথে অল্প পরিমাণে ফল বা শাকসবজি তাকে অফার করতে পারেন। শিশুর খাবার সাজাতে পারেন চমৎকারভাবে। মজাদার এবং রঙিন সাজে সাজানো ফল এবং সবজি শিশুকে খাবার সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে। 

৪। শিশুর প্লেটে কতটা খাবার থাকা উচিত তা শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ পাস্তা বা ভাত হতে পারে এক মুঠো পরিমাণ। সঙ্গে থাকতে পারে এক টুকরো মাছ বা মাংস। 

৫। সকালে যতই তাড়াহুড়ো থাকুক, সুষম খাবার দিয়ে দিন শুরু করা আপনার শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় পুষ্টি  যেমন ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার যেন থাকে সকালের নাস্তায়। এটি শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।

৬। শিশুরা যেন অলস না হয়ে পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি।  শিশুদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০ মিনিটের শারীরিক কার্যকলাপ প্রয়োজন। শিশুকে খেলতে উৎসাহ দিন ও স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট করে দিন। পারিবারিকভাবে আনন্দ উদযাপনের মাধ্যমে সময় কাটাতে পারেন শিশুর সঙ্গে। যেমন গান ছেড়ে একসঙ্গে নাচা বা একসঙ্গে সাইকেল চালানো।