শিশুর হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার আগে লেখাটি পড়ুন

বর্তমানে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করা যেন অসম্ভব। শিশুরাও ঝুঁকে পড়ছে ফোনে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্মার্টফোনে আটকে থাকতে দেখা যায় প্রায় সময়েই। হয় গেম খেলছে তারা, নাহয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু এত ছোট শিশুদের হাতে ফোন দেওয়া কি উচিত?

আমরা মনে করি শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দিলে হয়তো শিশু জেদি হয় বা কথা শুনতে চায় না। কিন্তু এর পরিণাম শিশুকে জীবনভর টানতে হতে পারে। একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৩ বছর বয়সের আগে যারা প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালে জার্নাল অব হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিসে প্রকাশিত এবং ১ লাখেরও বেশি তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় এর স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিশুরা যত তাড়াতাড়ি স্মার্টফোন ব্যবহার করে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা তত খারাপ হয়।

শিশুদের স্মার্ট ফোন দিলে পরবর্তীতে কোন কোন সমস্যায় তারা ভুগতে পারে জেনে নিন।

১। যারা ১৩ বছরের আগে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছিলেন, তাদের কিশোর বয়সে আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা, আগ্রাসন, আত্ম-মূল্যবোধের অভাব, মানসিক নিয়ন্ত্রণের অসুবিধা এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ করার ঝুঁকি বেশি ছিল।

২। সাম্প্রতিক গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক ফলাফলগুলোর মধ্যে একটি হলো, যারা অল্প বয়সে স্মার্টফোন পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তাভাবনার তীব্র বৃদ্ধি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৫ বা ৬ বছর বয়সে প্রথম স্মার্টফোন পাওয়া প্রায় অর্ধেক তরুণী পরে গুরুতর আত্মহত্যার চিন্তাভাবনার অভিযোগ করেছেন। এটা ১৩ বছর বয়সের পরে স্মার্টফোন পাওয়াদের এক চতুর্থাংশেরও বেশি। পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ এই ধরনের চিন্তাভাবনার অভিযোগ করেছেন, যেখানে ১৩ বছর বা তার পরে যারা ফোন পেয়েছিলেন তাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০ শতাংশ।

৩। মেয়েদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারের মানসিক প্রভাব বিশেষ কঠিন বলেই জানাচ্ছে গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৩ বছর বয়সের আগে যেসব মেয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করতো, তাদের মানসিক স্থিতিস্থাপকতা কম এবং তরুণ বয়সে তাদের বিভিন্ন মানসিক সমস্যা বেশি দেখা যায়। ছেলেদেরও আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, অস্থির বোধ করা এবং সহানুভূতি কম হওয়ার মতো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

৪। যদি কোনও শিশু অল্প বয়সে স্মার্টফোনের মালিক হয়, তাহলে তার সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক বেশি অ্যাক্সেস থাকবে। এর ফলে সাইবার বুলিং, ঘুমের সমস্যা এবং আগ্রাসী আচরণের মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা পরবর্তী বছরগুলোতে দেখা যেতে পারে।

৫। স্ক্রিনের আলো এবং ব্রাউজিংয়ে ব্যয় করা সময় স্বাভাবিক ঘুমের রুটিন ব্যাহত করে। দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের এই অভাব মেজাজের পরিবর্তন, মনোযোগের সমস্যা এবং মানসিক চাপকে আরও প্রকট করে তোলে।

৬। যত বেশি সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করবে শিশু, ঝুঁকি তত বাড়বে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অল্প বয়সে স্মার্টফোনের মালিক বনে যাওয়া শিশুরা সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন নানা প্ল্যাটফর্মে অল্প বয়সেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু এগুলো শিশুদের মস্তিষ্ককে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি।

তথ্যসূত্র:
জার্নাল অব হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিস, স্যাপিয়েন ল্যাবস ২০২৫, সিএনএন, এবিসি নিউজ