মুখরোচক অথচ পুষ্টিকর স্ন্যাক্স খেতে চাইলে বর্ষার বিকালে রাখুন তিল-পনির টিক্কা

বৃষ্টির দিনে গরম গরম মুখরোচক কিছু খেতে ইচ্ছে করেই। আর বর্ষায় আবহাওয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা পেটের গোলমালের মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি। তিল ও পনির এই দুই উপকরণ হতে পারে এমন একটি খাবারের অংশ, যা স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই দেবে। কারণ তিলে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। অন্য দিকে পনিরও প্রোটিন ও ক্যালশিয়ামের ভালো উৎস। তাই সন্ধ্যার হালকা খাবার হিসাবে বাইরের ভাজাভুজির বদলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন পুষ্টিকর ও প্রোটিনসমৃদ্ধ তিল-পনির টিক্কা।

কী কী লাগবে

তিল-পনির টিক্কা বানাতে লাগবে পনির- ২০০ গ্রাম, সাদা তিল- ২-৩ টেবিল চামচ, টক দই- ৩ টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা- ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো- আধা চা চামচ, জিরে গুঁড়ো- আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়ো- স্বাদমতো, লবণ- প্রয়োজনমতো এবং তেল- সামান্য

কী ভাবে বানাবেন

ধাপে ধাপে বানানোর পদ্ধতি দেওয়া হলো-

১. পনির প্রস্তুত করুন: পনির সমান মাপের চৌকো টুকরো করে কেটে নিন। খুব নরম পনির হলে কাটার আগে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখলে আকার ঠিক রাখা সহজ হবে।

২. তৈরি করুন ম্যারিনেশন: একটি পাত্রে টক দই, আদা-রসুন বাটা, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, মরিচ গুঁড়ো ও লবণ মিশিয়ে নিন। চাইলে সামান্য গোলমরিচও দিতে পারেন।

৩. পনির ম্যারিনেট করুন: মশলা-মেশানো দইয়ের মধ্যে পনিরের টুকরোগুলি দিয়ে আলতো করে মিশিয়ে নিন। অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন, যাতে মশলার স্বাদ পনিরের ভিতরে ভালোভাবে ঢোকে।

৪. তিলের আস্তরণ দিন: ম্যারিনেট করা পনিরের প্রতিটি টুকরোর গায়ে সাদা তিল ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। তিলের পরিমাণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাড়াতে বা কমাতে পারেন।

৫. এবার রান্না: নন-স্টিক প্যান গরম করে সামান্য তেল দিন। তেল গরম হলে তিল-মাখানো পনিরের টুকরোগুলি সাজিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজুন। দু’পিঠ হালকা সোনালি ও মচমচে হয়ে এলেই নামিয়ে নিন।

স্বাদ বাড়াতে সঙ্গে যা দেবেন

তিল-পনির টিক্কার সঙ্গে ধনেপাতা-পুদিনার চাটনি, টম্যাটো সস কিংবা সামান্য লেবুর রস পরিবেশন করতে পারেন। বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় চা বা কফির সঙ্গে এই টিক্কা হতে পারে জমজমাট একটি ঘরোয়া স্ন্যাক্স।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা ভালো, শরীর সুস্থ রাখতে সুষম খাবারের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যকর রান্নার অভ্যাসও জরুরি।