ফিট থাকতে সবসময় কঠোর শরীরচর্চা কিংবা কড়াকড়ি ডায়েটের প্রয়োজন হয় না। বরং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা অনেক সময় এমন কিছু ছোট অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে, যেগুলো আমরা সহজেই উপেক্ষা করি। ৪২ বছর বয়সী এক নারী ফিট থাকতে প্রতিদিন অনুসরণ করা তার এমনই নয়টি ‘একঘেয়ে’ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার অ্যানি তার এই সহজ রুটিনের কথা তুলে ধরেছেন। যারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উপায়ে ফিটনেস ধরে রাখতে চান, তাঁদের জন্যও এসব অভ্যাস অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আমার বয়স ৪২। ১০ হাজার স্টেপ নয়, পেপটাইডও নয়। প্রতিদিন শুধু ৯টি একঘেয়ে কাজ করি।”
চলতি সময়ের নানা ধরনের ওয়েলনেস কৌশল বা দ্রুত ফল পাওয়ার পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে অ্যানির রুটিনে গুরুত্ব পেয়েছে এমন কিছু সহজ ও নিয়মিত অভ্যাস, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাপনের অংশ করে নেওয়া সম্ভব।
১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা
অ্যানি জানিয়েছেন, তিনি প্রতিদিন রাতে অন্তত ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন। তার মতে, এতে পরিপাকতন্ত্র কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পায় এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা খাবার না খাওয়ার পর শরীরে জমা থাকা গ্লাইকোজেনের মজুত কমতে শুরু করে এবং তখন শরীর জ্বালানি হিসেবে চর্বি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে পারে।
ভাইব্রেশন প্লেট ও রেড লাইট থেরাপি
অ্যানি জানান, তিনি নিয়মিত অন্তত ১৫ মিনিট ভাইব্রেশন প্লেটে ব্যায়াম করেন। পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই মুখে রেড লাইট থেরাপি ব্যবহার করেন।
তার দাবি, ভাইব্রেশন প্লেটে ব্যায়াম করলে শরীরে লসিকা ও রক্ত সঞ্চালন বাড়তে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শরীরের ব্যথাযুক্ত জয়েন্ট ও পেশি কিছুটা শিথিল করতেও এটি সহায়ক বলে মনে করেন তিনি।
লেবু-পানি
সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ১৮ থেকে ২০ আউন্স (প্রায় ৫৩০–৫৯০ মিলিলিটার) হালকা গরম লেবু-পানি পান করেন। তার মতে, ঘুমের পর শরীরকে পুনরায় পানিশূন্যতা কাটিয়ে উঠতে এটি সহায়তা করে। তিনি বলেন, “সকালে এটিই প্রথম জিনিস যা আমার পেটে যায়।”
প্রোটিন ও ফাইবার গ্রহণ
প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে অন্তত ১৩৫ গ্রাম প্রোটিন এবং ৩৫ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করেন অ্যানি। নিজের খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টির হিসাব ঠিক রাখতে তিনি একটি ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করেন। এতে প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখা এবং নিয়মিত থাকার ক্ষেত্রে সুবিধা হয় বলে জানান তিনি।
ওজন নিয়ে শরীরচর্চা
অ্যানির দৈনন্দিন ফিটনেস রুটিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ওজন নিয়ে ব্যায়াম। তিনি সপ্তাহে চার দিন ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করেন।
অ্যানি জানান, তিনি নিজের তৈরি ব্যায়াম পরিকল্পনা অনুসরণ করেন এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের চাপ বা ওজন বাড়ানোর পদ্ধতি—অর্থাৎ প্রগ্রেসিভ ওভারলোড—ব্যবহার করেন। প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যায়াম করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম নিয়মিত করে ধীরে ধীরে এর মাত্রা বাড়ানোর ওপরই তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রাকৃতিক ও পূর্ণাঙ্গ খাবার
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে অ্যানি প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়ে প্রাকৃতিক ও পূর্ণাঙ্গ খাবারকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, তাঁর খাবারে চিনির পরিমাণ কম থাকে এবং গ্লুটেনও তুলনামূলক কম গ্রহণ করেন। তাঁর খাদ্যতালিকার মূল ভিত্তি হলো হোল ফুড বা কম প্রক্রিয়াজাত, প্রাকৃতিক খাবার।
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের হিসাব রাখা
প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের মতো ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ হিসাব করে রাখেন অ্যানি। তার মতে, এই হিসাব রাখার ফলে প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণ ২ হাজারের ওপরে রাখা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, পর্যাপ্ত ক্যালরি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শরীরকে পেশি গঠন ও দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে সাহায্য করা যায়।
বিটারস ও হজমের এনজাইম
অ্যানি জানান, তিনি খাবার খাওয়ার আগে বিটারস এবং খাবারের সঙ্গে ডাইজেস্টিভ এনজাইম গ্রহণ করেন। তার মতে, এগুলো খাবারের পুষ্টি উপাদান ভাঙতে ও শোষণে সহায়তা করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং কমাতেও এগুলো ভূমিকা রাখে বলে তিনি মনে করেন।
শরীরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
তার দৈনন্দিন রুটিনের শেষ অভ্যাসটি হলো নিয়মিত শরীরের পরিবর্তন ও অগ্রগতি পরিমাপ করা। এ জন্য অ্যানি বাড়িতে একটি বডি পড ব্যবহার করেন, যা অনেকটা ডেক্সা বা ইন-বডি মেশিনের মতো।
এই যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি শরীরের পেশি বৃদ্ধির হার, চর্বি কমার পরিমাণ, ভিসেরাল ফ্যাট, শরীরে পানির পরিমাণ এবং বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর)-সহ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন। এসব তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজের ফিটনেসের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন এবং লক্ষ্যের পথে নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
সূত্র: এনডিটিভি