বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর ব্যথা অনেকের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর দাঁড়ানো, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা কিছুক্ষণ হাঁটলেই হাঁটুতে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। নানা কারণে এমন ব্যথা হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি যোগাসনের মাধ্যমেও অনেকে হাঁটু ও পায়ের অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে একটি হলো অনন্তাসন।
বিষ্ণুর শয়নভঙ্গির সঙ্গে এই আসনের মিল রয়েছে বলে একে অনেকে ‘ঘুমন্ত বিষ্ণু’ আসনও বলেন। অনন্তাসনে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে এক পা ওপরের দিকে তুলতে হয়। ফলে পা, ঊরু, কোমর ও শরীরের পাশের অংশে টান তৈরি হয়।
যেভাবে করবেন: প্রথমে যোগম্যাটের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। এবার ধীরে ধীরে শরীরের যেকোনো এক পাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন। যে পাশে ফিরেছেন, সেই পাশের হাতের ওপর মাথা রাখুন। কনুই মাটিতে রাখুন। কাঁধ ও কনুই যেন প্রায় একই সরলরেখায় থাকে। এবার ওপরের পাটি ধীরে ধীরে সোজা করে তুলুন। একই পাশের হাত দিয়ে পায়ের বড় আঙুল ধরার চেষ্টা করুন। পা ও হাত যতটা সম্ভব সোজা রাখুন। এই অবস্থানে প্রায় ৩০ সেকেন্ড থাকুন। অভ্যাস হয়ে গেলে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। এবার অন্য পাশে ফিরে একইভাবে আসনটি করুন।
কী কী উপকার হতে পারে: নিয়মিত অনন্তাসন অভ্যাস করলে পা ও শরীরের নিচের অংশের পেশিতে টান তৈরি হয় এবং নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে— পা ও ঊরুর পেশির নমনীয়তা বাড়তে পারে, কোমর ও নিতম্বের পেশি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে, শরীরের ভারসাম্য ও নমনীয়তা উন্নত হয়, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে তৈরি হওয়া পেশির জড়তা কমাতে সহায়ক, নিয়মিত শরীরচর্চার অংশ হিসেবে সামগ্রিক শারীরিক ফিটনেসে ভূমিকা রাখে।
তবে হাঁটুর ব্যথা, সায়াটিকা বা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা সারিয়ে দেয়, এমন দাবি না করে এটিকে সহায়ক ব্যায়াম হিসেবে দেখা উচিত। দীর্ঘদিনের বা তীব্র হাঁটুর ব্যথার কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কারা সতর্ক থাকবেন: হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে বা গুরুতর চোট থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে এই আসন করা উচিত নয়। গর্ভাবস্থায়ও যোগাসন করার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত যোগশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আসন করার সময় হাঁটু বা কোমরে ব্যথা বাড়লে জোর করে ভঙ্গি ধরে রাখবেন না। ব্যথা কমানোর জন্য যোগাসন করলেও ব্যথার মূল কারণ নির্ণয় করাই প্রথম কাজ।









