ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিছু ট্রেন্ড বারবার ফিরে আসে। লেপার্ড প্রিন্ট তেমনই এক চিরসবুজ ধারা যা কখনও সাহসী, কখনও গ্ল্যামারাস, আবার কখনও নিখাদ এলিগ্যান্ট। বর্তমানে এই অ্যানিমেল প্রিন্ট নতুন করে তারকাদের ওয়ারড্রোবে জায়গা করে নিলেও শিল্পা শেঠির কাছে এটি মোটেই নতুন কিছু নয়। বরং কয়েক দশক ধরেই নানা রূপে লেপার্ড প্রিন্টকে নিজের স্টাইলের অংশ করে নিয়েছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি নিজের ফ্যাশন আর্কাইভ খুলে ইনস্টাগ্রামে সেই পুরোনো ও নতুন লুকগুলোর ঝলক দেখিয়েছেন শিল্পা। ছোটবেলার মিষ্টি ছবি থেকে ৯০-এর দশকের সাজ, ২০০০-এর দশকের ওয়াই২কে স্টাইল, ওয়েস্টার্ন পোশাক, বিচ লুক এমনকি লেপার্ড প্রিন্টের শাড়িতেও দেখা গেছে তাকে। আর প্রতিটি লুকেই ছিল নিজস্ব স্টাইলের ছাপ।
ছোটবেলা থেকেই লেপার্ড প্রিন্টে
শিল্পার ফ্যাশন-যাত্রার শুরুতেই রয়েছে লেপার্ড প্রিন্টের উপস্থিতি। ফ্যাশন ভল্টের একটি ছবিতে ছোট্ট শিল্পাকে দেখা যায় লেপার্ড-প্রিন্টের পোশাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য বদলেছে পোশাকের কাট, স্টাইলিং ও উপস্থাপন কিন্তু অ্যানিমেল প্রিন্টের প্রতি তার ভালোবাসা থেকে গেছে একই।
৯০-এর দশকের একটি পুরোনো ছবিতে শিল্পাকে দেখা যায় লালচে অ্যানিমেল-প্রিন্ট কো-অর্ড সেটে। ক্রপড হাল্টার-স্টাইলের টপের সঙ্গে ছিল ম্যাচিং বটমস। সাজ ছিল বেশ সাদামাটা; ফলে তার ঘন, ভলিউমিনাস চুল এবং উজ্জ্বল পোশাকই হয়ে উঠেছিল পুরো লুকের মূল আকর্ষণ।
ওয়াই২কে আমেজেও নজরকাড়া
২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ফ্যাশনেও লেপার্ড প্রিন্টকে নিজের মতো করে হাজির করেছিলেন শিল্পা। একটি লুকে তাকে দেখা যায় ফিগার-হাগিং অ্যানিমেল-প্রিন্ট ক্রপ টপ ও ম্যাচিং লো-রাইজ বটমসে।
বস্টিয়ের-অনুপ্রাণিত টপ, উন্মুক্ত মিডরিফ এবং শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁট সিলুয়েটে লুকটিতে ছিল সেই সময়ের স্বতন্ত্র ওয়াই২কে আমেজ। পুরোনো সেই স্টাইল আজকের ফ্যাশনেও যে অনায়াসে ফিরে আসতে পারে, শিল্পার লুকগুলো যেন তারই প্রমাণ।
ওয়েস্টার্ন থেকে দেশি সাজ
শুধু ওয়েস্টার্ন পোশাকেই নয়, ভারতীয় ঘরানার সাজেও লেপার্ড প্রিন্টকে দারুণভাবে মেলাতে জানেন শিল্পা। একটি পুরোনো লুকে লেপার্ড-প্রিন্ট টপের সঙ্গে উজ্জ্বল নীল দোপাট্টা জুড়েছিলেন তিনি।
এর সঙ্গে বড়সড় স্টেটমেন্ট কানের দুল ও ধাতব অলংকরণে সাজানো হ্যান্ডব্যাগ যোগ করে লুকটিকে আরও গ্ল্যামারাস করে তুলেছিলেন অভিনেত্রী। অ্যানিমেল প্রিন্ট যে দেশি পোশাকের সঙ্গেও সমান আকর্ষণীয় হতে পারে, এই সাজ তারই উদাহরণ।
সন্ধ্যার সাজেও লেপার্ডের দাপট
শিল্পার ফ্যাশন আর্কাইভে রয়েছে বেশ কিছু গ্ল্যামারাস ইভনিং লুকও। গাঢ় রঙের একটি ড্রেসে ছিল স্বচ্ছ ডটেড মেশ, লেসের কারুকাজ এবং অ্যানিমেল-প্রিন্ট প্যানেল। অন্য একটি লুকে শরীরের গড়ন ফুটিয়ে তোলা ফিগার-হাগিং লেপার্ড-প্রিন্ট ড্রেসের সঙ্গে তিনি বেছে নিয়েছিলেন কালো হ্যান্ডব্যাগ ও সোনালি ঘড়ি।
সাদামাটা অ্যাকসেসরিজের সঙ্গে নজরকাড়া প্রিন্টের ভারসাম্য এই লুকেও সেই স্টাইল সেন্সই স্পষ্ট।
ছুটির আমেজেও ‘ওয়াইল্ড’ স্টাইল
লেপার্ড প্রিন্ট থেকে ছুটির দিনেও দূরে থাকেননি শিল্পা। সমুদ্রসৈকতে তাকে দেখা গেছে লেপার্ড-প্রিন্টের বিকিনিতে। ফলে পার্টি, ইভনিং গ্ল্যামার কিংবা অবকাশযাপন—সব ক্ষেত্রেই এই প্রিন্টকে নিজের মতো করে তুলে ধরেছেন তিনি।
আরও এক ধাপ এগিয়ে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে পুরোপুরি লেপার্ড-প্রিন্টের শাড়িতেও। এর সঙ্গে স্ট্রাকচার্ড ব্ল্যাক ক্রপড ব্লাউজ জুড়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এনেছেন আধুনিকতার ছোঁয়া।
কয়েক দশক, এক ট্রেন্ড
শিল্পা শেঠির লেপার্ড-প্রিন্টের এই দীর্ঘ ফ্যাশন-যাত্রা আসলে একটি বিষয়ই স্পষ্ট করে ট্রেন্ড বদলায়, ফ্যাশনের ভাষা বদলায়, কিন্তু কিছু স্টাইল ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়।
৯০-এর দশকের কো-অর্ড সেট থেকে ওয়াই২কে ক্রপ টপ, দোপাট্টা, ইভনিং ড্রেস, বিকিনি কিংবা লেপার্ড-প্রিন্ট শাড়ি প্রতিটি লুকেই শিল্পা প্রমাণ করেছেন, অ্যানিমেল প্রিন্ট তার জন্য কোনো সাময়িক ফ্যাশন ট্রেন্ড নয়। বরং কয়েক দশক ধরে এটি তার স্টাইল প্লেবুকের অন্যতম পরিচিত অধ্যায়।
সূত্র: এনডিটিভি