ছুটির দিন বা বিশেষ কোনও আয়োজনে বিরিয়ানির নাম শুনলেই খেতে ইচ্ছে করে। তবে মাংসের বদলে এবার চিংড়ি দিয়ে বানিয়ে দেখতে পারেন অন্য স্বাদের বিরিয়ানি। নারকেলের দুধ, মশলা আর রসালো চিংড়ি দিয়ে তৈরি মালাই প্রন বিরিয়ানি হতে পারে খাবার টেবিলের নতুন আকর্ষণ। রান্নাও খুব একটা ঝক্কির নয়। বাড়িতে সহজেই কী ভাবে বানাবেন, রইলো রেসিপি।
উপকরণ
৫০০ গ্রাম বড় চিংড়ি, ৩ কাপ বাসমতি চাল, ১ চা-চামচ জিরে, ১টি জয়িত্রি, ৫ গ্রাম গোটা গরমমশলা (দারচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ), আধ কাপ পেঁয়াজবাটা, ১ টেবিলচামচ আদাবাটা, ১ টেবিলচামচ হলুদগুঁড়ো, ১ চা-চামচ ধনেগুঁড়ো, ১ চা-চামচ গরমমশলার গুঁড়ো, আধ কাপ ফেটানো টকদই, ২ টেবিলচামচ নারকেলবাটা, আধ কাপ নারকেলের দুধ, ৪টি কাঁচালঙ্কা চেরা, স্বাদমতো নুন ও চিনি, পরিমাণমতো সাদা তেল, পরিমাণমতো ঘি, ২৫ গ্রাম ভাজা কাজু-কিশমিশ, ৩ টেবিলচামচ বেরেস্তা এবং সামান্য জাফরান।
প্রণালী
প্রথমে চিংড়ি পরিষ্কার করে নুন ও সামান্য হলুদ মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে চিংড়িগুলি হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
এ বার একই কড়াইয়ে গোটা গরমমশলা, জিরে ও জয়িত্রি দিয়ে ফোড়ন দিন। গন্ধ বেরোতে শুরু করলে পেঁয়াজবাটা ও আদাবাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এর পর হলুদগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, গরমমশলার গুঁড়ো, লবণ ও সামান্য চিনি দিয়ে মশলা কষাতে থাকুন।
মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে ফেটানো টকদই দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। নারকেলবাটা ও নারকেলের দুধ দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন।
এর পর ভাজা চিংড়ি ও চেরা কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে কম আঁচে কয়েক মিনিট রান্না করুন। চিংড়ি বেশি সেদ্ধ করবেন না, তা হলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। চিংড়ির মালাইকারির মতো মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে রাখুন।
এ বার চাল ধুয়ে ৮০ শতাংশ সেদ্ধ করে ঝরঝরে করে নিন। হাঁড়ির তলায় সামান্য ঘি মাখিয়ে প্রথমে এক পরত ভাত দিন। তার ওপর চিংড়ি ও নারকেলের ঝোল ছড়িয়ে দিন। আবার এক পরত ভাত দিয়ে ঢেকে দিন।
সবশেষে ওপর থেকে ঘি, দুধে ভেজানো কেশর, বেরেস্তা এবং ভাজা কাজু-কিশমিশ ছড়িয়ে দিন। হাঁড়ির মুখ ভালোভাবে ঢেকে কম আঁচে প্রায় ১০-১৫ মিনিট দমে রাখুন। চুলা বন্ধ করে আরও কয়েক মিনিট ঢাকা অবস্থায় রেখে দিন।
ঢাকনা খুলতেই মিলবে নারকেলের দুধের মোলায়েম স্বাদ, সুগন্ধি মশলা আর রসালো চিংড়ির দারুণ স্বাদে তৈরি মালাই প্রন বিরিয়ানি।