গ্রীষ্মে ত্বকচর্চায় যেসব ভুলে হারিয়ে যেতে পারে উজ্জ্বলতা

গ্রীষ্ম মানেই তীব্র রোদ, ঘাম আর অস্বস্তিকর গরম। এই সময়ে শুধু শরীর নয়, বাড়তি যত্ন প্রয়োজন ত্বকেরও। অতিরিক্ত তাপ, ঘাম, দূষণ ও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বক হয়ে উঠতে পারে নিষ্প্রাণ ও শুষ্ক। অথচ ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে।

সানস্ক্রিন থেকে শুরু করে ময়েশ্চারাইজার গ্রীষ্মের ত্বকচর্চায় কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন তা নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

গরমে বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, শুধু রোদ বেশি থাকলেই সানস্ক্রিন প্রয়োজন। আসলে অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের অকালবার্ধক্য, সানবার্নসহ নানা ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তাই বাইরে বেরোনোর আগে অন্তত এসপিএফ ৩০-এর সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মুখের পাশাপাশি ঘাড়, হাতের মতো খোলা অংশেও লাগাতে হবে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে সাধারণত দুই ঘণ্টা পর পর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন উপকারী। কিন্তু অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েট করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া কিংবা সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে।

গ্রীষ্মে ঘাম, তাপ ও দূষণের কারণে ত্বক এমনিতেই নানা ধরনের চাপের মধ্যে থাকে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু এক্সফোলিয়েটর বেছে নেওয়াই ভালো। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলুন।

গরমে ঘামের কারণে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে ত্বকেও। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক নিষ্প্রাণ ও শুষ্ক দেখাতে পারে।

তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা, হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা অ্যালোভেরার মতো উপাদানযুক্ত পণ্য অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।

চোখের চারপাশের ত্বক তুলনামূলকভাবে পাতলা ও সংবেদনশীল। রোদে এই অংশটিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মুখের যত্ন নিলেও চোখের চারপাশের ত্বক বাদ দেবেন না।

চোখের চারপাশে পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে মৃদু ফর্মুলা বেছে নেওয়া জরুরি। দিনের বেলায় সানগ্লাস ব্যবহার করাও সূর্যের তীব্র আলো থেকে চোখ ও আশপাশের ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

অনলাইনের বিজ্ঞাপন বা পরিচিত কারও পরামর্শ শুনে যে কোনও প্রসাধনী কিনে ব্যবহার করা ঠিক নয়। একই পণ্য একেক ধরনের ত্বকে একেক রকম প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে গরমে ত্বকের জন্য অতিরিক্ত ভারী বা অনুপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ব্রণ, জ্বালা কিংবা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নিন। কোনও সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

গ্রীষ্মে ঘাম, সানস্ক্রিন ও ধুলোময়লা ত্বকে জমে থাকতে পারে। ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে রোমকূপ আটকে গিয়ে ব্রণসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে ত্বক পরিষ্কার করতে গিয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা খুব কড়া ক্লিনজ়ার ব্যবহার করাও ঠিক নয়। ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রেখে ময়লা পরিষ্কার করতে পারে—এমন মৃদু ক্লিনজ়ার বেছে নিন।

মুখের ত্বকের যত্ন নিলেও ঠোঁটের কথা অনেক সময় মনে থাকে না। কিন্তু গ্রীষ্মের তীব্র রোদে ঠোঁটও শুষ্ক ও ফেটে যেতে পারে।

তাই এসপিএফযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁট আর্দ্র রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিক বার লিপ বাম লাগানো ভালো।

গ্রীষ্মে ত্বক ভালো রাখতে শুধু কোনও বিশেষ দিনে যত্ন নিলেই হবে না। নিয়মিত পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত পানি পান, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহারে তৈরি হয় স্বাস্থ্যকর ত্বকের রুটিন। নিজের ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য বেছে নিয়ে নিয়মিত যত্ন নিলেই গরমেও ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা ধরে রাখা সম্ভব।