মুখে ছোট ছোট কালো দাগের মতো দেখা যায় ব্ল্যাকহেড। অনেকেই আঙুল দিয়ে চেপে বা বিভিন্ন ধরনের টুল ব্যবহার করে এগুলো তুলে ফেলতে চান। কিন্তু বাড়িতে এভাবে ব্ল্যাকহেড চেপে বের করা কি আদৌ নিরাপদ? আর বারবার যাতে ব্ল্যাকহেড না হয়, তার জন্য কী করা যেতে পারে?
তার আগে জেনে নিন ব্ল্যাকহেড কেন হয়। ব্ল্যাকহেড এক ধরনের ব্রণ, যা সাধারণত মুখ, ঘাড়, পিঠ ও বুকের ত্বকে দেখা যায়। অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ ও অন্যান্য উপাদান রোমকূপে জমে তা বন্ধ করে দিলে ব্ল্যাকহেড তৈরি হতে পারে। পরে বাতাসের সংস্পর্শে এসে রোমকূপের ভেতরের উপাদান কালচে হয়ে যায়।
ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন ব্ল্যাকহেডের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে এমন কিছু প্রসাধনী ও স্কিন কেয়ার পণ্যও সমস্যা বাড়াতে পারে। শিয়া বাটার, নারকেল তেল বা অ্যাভোকাডো তেলযুক্ত কিছু পণ্য এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। একসঙ্গে অনেক বেশি স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করলেও কারও কারও ব্ল্যাকহেডের প্রবণতা বাড়তে পারে।
যেকোনো বয়সে ব্ল্যাকহেড হতে পারে। তবে বয়ঃসন্ধিকাল বা গর্ভাবস্থার মতো হরমোনের ওঠানামার সময় এর প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু শারীরিক অবস্থাতেও ব্ল্যাকহেড বেশি দেখা যেতে পারে।
বাড়িতে চেপে বের করা কি ঠিক?
ব্ল্যাকহেড তুলে ফেলা বা চেপে বের করা দ্রুত ফল দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বাড়িতে এভাবে ব্ল্যাকহেড দূর করার পরামর্শ দেন না।
নিজে চেপে বা খুঁচিয়ে তুললে ত্বকে অতি সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, সংক্রমণ কিংবা পরে দাগও তৈরি হতে পারে। তাই ব্ল্যাকহেড অপসারণের প্রয়োজন হলে জীবাণুমুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে করানোই নিরাপদ।
পোর স্ট্রিপ কতটা কার্যকর?
ব্ল্যাকহেড দূর করার জন্য পোর স্ট্রিপ বেশ জনপ্রিয়। ত্বকে লাগিয়ে পরে টেনে খুলে ফেলতে হয় এসব স্ট্রিপ। এতে ত্বকের ওপরের কিছু তেল ও মৃত কোষ উঠে আসতে পারে।
তবে পোর স্ট্রিপকে খুব কার্যকর সমাধান মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ এটি অনেক সময় ব্ল্যাকহেডের শুধু ওপরের অংশটুকু তুলে ফেলে। রোমকূপের ভেতরের জমে থাকা উপাদান থেকে যেতে পারে। পাশাপাশি, এসব স্ট্রিপ ব্যবহারে ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তিও হতে পারে।
কীভাবে ব্ল্যাকহেড প্রতিরোধ করবেন?
ব্ল্যাকহেড তুলে ফেললে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। কারণ কিছুদিন পর সেটি আবার ফিরে আসতে পারে। তাই ব্ল্যাকহেড প্রতিরোধে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি টপিক্যাল রেটিনয়েড ত্বকের মৃত কোষ দ্রুত ঝরে যেতে সাহায্য করে। ফলে রোমকূপের ভেতরে মৃত কোষ জমে ব্ল্যাকহেড তৈরির সম্ভাবনা কমতে পারে।
বেশির ভাগ রেটিনয়েড, যেমন ট্রেটিনয়িন, ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। তবে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায় এমন রেটিনয়েড অ্যাডাপালিনও ব্ল্যাকহেডের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। বাজারে রেটিনলযুক্ত বিভিন্ন পণ্যও পাওয়া যায়। রেটিনল রেটিনয়েড পরিবারেরই একটি উপাদান এবং এটি বিদ্যমান ব্ল্যাকহেড কিছুটা কমানোর পাশাপাশি নতুন ব্ল্যাকহেড তৈরির প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে রেটিনলযুক্ত পণ্য সাধারণত প্রেসক্রিপশন রেটিনয়েডের তুলনায় কম শক্তিশালী এবং এগুলোর কার্যকারিতাও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিয়মিত ব্ল্যাকহেড হলে এবং বাজারে পাওয়া সাধারণ পণ্য ব্যবহার করেও উপকার না পেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা লেজার থেরাপি বা কেমিক্যাল পিলের মতো চিকিৎসা পদ্ধতির পরামর্শ দিতে পারেন। লেজার থেরাপি ত্বকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন কমাতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে কেমিক্যাল পিল ত্বকের মৃত কোষ দূর করার পাশাপাশি রোমকূপে জমে থাকা তেল ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ত্বকের ধরন ও সমস্যার সঙ্গে মানানসই একটি নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিন তৈরি করা। ব্ল্যাকহেড বারবার চেপে তোলার চেয়ে অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ নিয়ন্ত্রণে রাখাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর পদ্ধতি।
ত্বকের যত্নে আরও যা জানা দরকার
ত্বক ভালো রাখতে শুধু একটি পণ্য ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। কোন পণ্য ও রুটিন আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত, তা বুঝে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি। হাইপারপিগমেন্টেশন, বয়সের সঙ্গে ত্বকের পরিবর্তন, স্কিন কেয়ার রুটিন তৈরি কিংবা এলইডি ফেস মাস্কের মতো বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জানা যেতে পারে।
সূত্র: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস









