বাইরে বৃষ্টি, বাতাসে আর্দ্রতা, এর মধ্যেই ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি। রাস্তায় বের হলেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে পোশাক। আবার বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকছে। এমন আবহাওয়ায় আরামদায়ক পোশাক বেছে নেওয়া তাই শুধু স্বস্তির বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন চলাফেরার জন্যও জরুরি।
তবে আরামদায়ক পোশাক মানেই যে ফ্যাশনে ছাড় দিতে হবে, তা কিন্তু নয়। অফিস, আড্ডা কিংবা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় একটু পরিকল্পনা করে পোশাক বেছে নিলেই গরম ও বৃষ্টির মধ্যেও স্টাইল ধরে রাখা সম্ভব।
হালকা রঙে স্বস্তি
এই সময়ে খুব গাঢ় বা কড়া রঙের পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো। পোশাকে রাখতে পারেন সাদা, আকাশি, হালকা সবুজ, বেইজ, হালকা বাদামি কিংবা অলিভ শেড।
হালকা রঙের পোশাক দেখতে যেমন সতেজ লাগে, গরমের আবহাওয়ার সঙ্গেও বেশ মানিয়ে যায়। অফিসে যাওয়ার জন্য আকাশি শার্টের সঙ্গে কালো বা নেভি প্যান্ট হতে পারে সহজ ও স্মার্ট সমন্বয়।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা ক্যাজুয়াল আউটিংয়ে অলিভ ও বাদামির মতো প্রাকৃতিক রঙের কম্বিনেশনও বেছে নিতে পারেন।
কাপড় নির্বাচনে গুরুত্ব দিন
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পোশাকের নকশার চেয়ে কাপড়ের ধরন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের সঙ্গে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন হালকা কাপড় বেছে নিন।
সুতির পোশাক এ ক্ষেত্রে বেশ আরামদায়ক। পাশাপাশি লিনেনও ভালো বিকল্প। লিনেনের কাপড়ে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং গরমের সময় শরীর তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকে।
সিনথেটিক বা অতিরিক্ত ভারী কাপড়ের পোশাক যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ঘামে ভিজে গেলে এসব কাপড় শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
আঁটসাঁট নয়, ঢিলেঢালা পোশাক
ভ্যাপসা গরমে শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা পোশাক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সময়ে রিল্যাক্সড বা ঢিলেঢালা ফিটের পোশাক বেছে নিতে পারেন।
ফ্যাশনেও এখন ওভারসাইজ ও ড্রপ-শোল্ডার টি-শার্টের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এক সাইজ বড় বা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ঢিলেঢালা পোশাক গরমে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাজুয়াল লুকও তৈরি করে।
ঢিলেঢালা ট্রাউজার, কার্গো প্যান্ট কিংবা ক্যাজুয়াল প্যান্টও এ সময়ে পরতে পারেন।
অফিসে ফর্মাল, তবু আরামদায়ক
অফিসে ফর্মাল পোশাকের নিয়ম থাকলে হালকা রঙের সুতির বা লিনেন শার্ট বেছে নিতে পারেন। খুব ভারী কাপড়ের শার্ট বা টাইট ফিটের প্যান্ট এড়িয়ে চলাই ভালো।
বৃষ্টি ও ঘামের কথা মাথায় রেখে ব্যাগে একটি অতিরিক্ত শার্ট রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ। বাইরে থেকে ভেজা বা ঘামে ভিজে অফিসে পৌঁছালে সুযোগমতো পোশাক পরিবর্তন করে নিন।
মিটিংয়ে ‘সামার ব্লেজার’
জরুরি মিটিং, প্রেজেন্টেশন কিংবা চাকরির সাক্ষাৎকারে ফর্মাল লুক প্রয়োজন হলে গরমের জন্য তৈরি সামার ব্লেজার বেছে নিতে পারেন।
ভারী স্যুটের পরিবর্তে হালকা কাপড়ের ব্লেজার পরলে ফর্মাল লুকও বজায় থাকবে, আবার অস্বস্তিও তুলনামূলক কম হবে। এ ক্ষেত্রে বেইজ, ধূসর, হালকা নীল বা অন্য কোনো নরম রঙের ব্লেজার বেছে নিতে পারেন।
আড্ডায় শর্টস হতে পারে সঙ্গী
বাজারে যাওয়া, কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্য শর্টস হতে পারে আরামদায়ক বিকল্প।
স্পোর্টস শর্টসের সঙ্গে ওভারসাইজ টি-শার্ট ও স্নিকার পরলে তৈরি হবে স্পোর্টি ক্যাজুয়াল লুক। আর লিনেন শর্টসের সঙ্গে সাধারণ টি-শার্ট বা হালকা শার্ট পরতে পারেন।
তবে অফিস, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান বা রেস্টুরেন্টের মতো জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে শর্টসের বদলে ট্রাউজার বা চিনো বেছে নেওয়াই ভালো।
বৃষ্টির দিনে আরও কিছু বিষয়
বর্ষায় শুধু পোশাকের ধরন নয়, জুতার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। ভিজে গেলে দ্রুত শুকায় এমন জুতা বা স্যান্ডেল বেছে নিতে পারেন। অতিরিক্ত ভারী ও সহজে পানি শোষণ করে এমন জুতা এড়িয়ে চলা ভালো।
সব মিলিয়ে বর্ষার ভ্যাপসা গরমে ছেলেদের পোশাক হওয়া উচিত হালকা, বাতাস চলাচলযোগ্য ও আরামদায়ক। তার সঙ্গে রঙ ও ফিটে একটু আধুনিকতা যোগ করলেই স্বস্তির সঙ্গে স্টাইলও থাকবে। আবহাওয়া যতই গুমোট হোক, পোশাকের সঠিক নির্বাচনে দিনটা হতে পারে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।