জিমে যাওয়ার সময় নেই? ঘরেই করুন ১০ মিনিটের এই অভ্যাস

ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নিয়মিত শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করতে পারেন না। অফিস, পড়াশোনা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে জিমে যাওয়ার পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে যায়। তবে শরীরকে সক্রিয় রাখতে সবসময় দীর্ঘ সময়ের ব্যায়াম প্রয়োজন হয় না। দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও অল্প সময় হাঁটার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।

বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা হাঁটা দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর সহজ উপায় হতে পারে। তবে হাঁটার গতি ও সময় ব্যক্তির বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করা উচিত।

খাবারের পর হাঁটা কেন উপকারী হতে পারে?

খাবার খাওয়ার পর শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে। হালকা হাঁটাচলা করলে পেশিগুলো সক্রিয় থাকে এবং শরীর গ্লুকোজ ব্যবহারের সুযোগ পায়। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার সামগ্রিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।

তবে ডায়াবেটিস থাকলে শুধু হাঁটার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার, ওষুধ ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা করা জরুরি।

হজমে স্বস্তি দিতে পারে

খাবারের পর দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকার বদলে অল্প সময় ধীরে হাঁটলে শরীর সচল থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে এতে খাবারের পর ভারী লাগা বা অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।

তবে খুব ভারী খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত হাঁটা বা কঠোর ব্যায়াম করা ঠিক নয়। স্বাভাবিক গতিতে আরাম করে হাঁটাই ভালো।

বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটার অভ্যাসও যদি নিয়মিত করা যায়, তাহলে দিনের মোট শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ বাড়ে।

একটানা অনেকক্ষণ বসে কাজ করতে হলে মাঝেমধ্যে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটাও উপকারী অভ্যাস হতে পারে।

১০ মিনিট দিয়েই শুরু করুন

শুরুতেই দীর্ঘ সময় ব্যায়ামের লক্ষ্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১০ মিনিট হাঁটা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে হাঁটার সময় বা দিনের মোট শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো সম্ভব।

লিফটের বদলে সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাছের জায়গায় হেঁটে যাওয়া কিংবা কাজের বিরতিতে কয়েক মিনিট হাঁটাও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সহজ উপায়।

নিয়মিত করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

এক দিন অনেকক্ষণ ব্যায়াম করার চেয়ে নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে পুরোপুরি শরীরচর্চা বাদ না দিয়ে নিজের সময়সূচির সঙ্গে মানানসই ছোট লক্ষ্য ঠিক করা যেতে পারে।

তবে হৃদ্‌রোগ, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা, হাঁটাচলায় সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে নতুন ব্যায়ামের অভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

জিমের সদস্যপদ না থাকলেও শরীরকে সক্রিয় রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা দিয়ে শুরু করাও হতে পারে ফিট থাকার একটি সহজ অভ্যাস।