দুই মিনিটের ব্রাশেই ত্বকে ফিরবে সতেজতা

ত্বক টানটান রাখা ও মুখে উজ্জ্বলতা আনতে ক্রিম, সিরামসহ নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন অনেকে। এবার রূপচর্চার তালিকায় যোগ করতে পারেন একটি ব্রাশও। তবে সেটি দাঁত মাজার ব্রাশ নয়, ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশ। পদ্ধতিটি নতুন নয়, কিন্তু নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে এই ধরনের ব্রাশ।

ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশ ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি ব্যবহার সহজ এবং সময়ও লাগে কম। নিয়ম মেনে ২-৩ মিনিট মুখে আলতোভাবে ব্রাশ করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এবং সাময়িকভাবে মুখের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। ত্বকও দেখাতে পারে কিছুটা মসৃণ ও সতেজ। তবে সবার ত্বকের জন্য এই পদ্ধতি উপযোগী নয়।

ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশ কীভাবে কাজ করে?

নরম ব্রিসলের ফেশিয়াল ব্রাশ ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ অপসারণে সাহায্য করে। ফলে ত্বক কিছুটা মসৃণ ও পরিষ্কার দেখাতে পারে। আলতো ম্যাসাজের কারণে রক্তসঞ্চালন সাময়িকভাবে বাড়তে পারে এবং মুখের ফোলা ভাবও কিছুটা কম মনে হতে পারে।

অনেকে ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশকে গুয়াশা, জেড রোলার বা আইস রোলারের সঙ্গে তুলনা করেন। এগুলোর মতোই এটি মূলত ম্যাসাজের মাধ্যমে ত্বককে সতেজ দেখাতে সাহায্য করে। তবে এটি ত্বক স্থায়ীভাবে টানটান করে বা মুখের গড়ন বদলে দেয়, এমন দাবি করার কারণ নেই।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

মুখের জন্য তৈরি নরম ব্রিসলের ছোট ব্রাশ বেছে নিন। ব্যবহারের আগে মুখ পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। এরপর খুব হালকা হাতে ব্রাশ করুন।

গলার নিচের অংশ থেকে থুতনির দিকে ওপরের দিকে ব্রাশ করুন। থুতনি থেকে গালের দিকে ব্রাশ করুন। কপালেও নিচ থেকে ওপরের দিকে আলতোভাবে ব্রাশ করতে পারেন। চোখের চারপাশের সংবেদনশীল অংশ এড়িয়ে চলুন। ব্রণ, ফুসকুড়ি, ক্ষত বা র‍্যাশের ওপর ব্রাশ করবেন না। সপ্তাহে কয়েক দিন ২-৩ মিনিট ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ব্যবহার শেষে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।

কারা সতর্ক থাকবেন?

শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকে শুকনো ব্রাশের ঘর্ষণ অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। মুখে সক্রিয় ব্রণ, র‍্যাশ, সংক্রমণ বা ক্ষত থাকলে সেই জায়গায় ব্রাশ ব্যবহার না করাই ভালো। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে বা দীর্ঘ সময় ব্রাশ করলেও ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব কিংবা ক্ষতি হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশ কোনও জাদুকাঠি নয়। এটি ব্যবহার করলেই ত্বক স্থায়ীভাবে টানটান হয়ে যাবে বা মুখের চোয়াল আরও ধারালো হয়ে উঠবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। মুখের গড়ন মূলত ব্যক্তির স্বাভাবিক হাড়ের কাঠামো ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।

তাই ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশকে ত্বকের যত্নের একটি অতিরিক্ত পদ্ধতি হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে ত্বকের ধরন ও অবস্থার কথা মাথায় রেখে আলতো হাতে এবং পরিমিতভাবে ব্যবহার করাই ভালো।