পূজার আগে ত্বকের যত্নে পার্লার বা বিউটি ক্লিনিকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ত্বকের নিস্তেজ ভাব, শুষ্কতা কিংবা হালকা দাগছোপ কমাতে অনেকেই নানা ধরনের ফেশিয়াল ও স্কিন ট্রিটমেন্ট বেছে নেন।ত্বককে সাময়িকভাবে সতেজ ও মসৃণ দেখাতে বাড়িতে কয়েকটি সহজ উপাদান দিয়ে পরিচর্যা করা যেতে পারে। যেমন কলা, তিসির জেল, মধু কিংবা টক দই। এগুলো ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং মসৃণ অনুভূতি দিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এগুলোকে বোটক্স, লেজার বা মেডিক্যাল কেমিক্যাল পিলের বিকল্প ভাবা ঠিক নয়। আর প্রতিটি ত্বকের জন্য সব ধরনের প্রসাধনী বা ঘরোয়া উপাদান সমানভাবে উপযোগী নয়। তাই দামি ট্রিটমেন্টের বিকল্প হিসাবে ঘরোয়া পরিচর্যা করতে চাইলে আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া জরুরি।
কলা ও তিসির জেল
পাকা কলা ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করতে পারে। অন্যদিকে তিসি পানিতে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে যে জেল পাওয়া যায়, সেটি ত্বকে লাগালে একটি মসৃণ ও হাইড্রেটেড অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তিসির জেল ঠান্ডা করে তার সঙ্গে সামান্য পাকা কলা মিশিয়ে মুখে পাতলা করে লাগানো যায়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহারের আগে হাতে বা চোয়ালের পাশে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। এটি ত্বককে কিছু সময়ের জন্য নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে।
মধুতে ত্বকের আর্দ্রতা
ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা রুক্ষ হলে মধু দিয়ে তৈরি সহজ ফেস মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। সামান্য মধু পরিষ্কার মুখে পাতলা করে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে মধু দিয়ে পিগমেন্টেশন বা মেছতার দাগ দূর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। দাগছোপ দীর্ঘদিন থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
টক দইয়ের পরিচর্যা
টক দইয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে, যা ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ আলগা করতে সহায়তা করতে পারে। তাই খুব সংবেদনশীল না হলে অল্প পরিমাণ সাধারণ টক দই মুখে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে নেওয়া যায়। তবে দইয়ের সঙ্গে লেবু বা অন্যান্য অ্যাসিডিক উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার না করাই ভালো।
পুজোর আগে ত্বক উজ্জ্বল রাখতে যা মনে রাখবেন
ঘরোয়া ফেস প্যাকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগানো ত্বকের যত্নে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনও উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত।
ত্বকে ব্রণ, একজিমা, সোরিয়াসিস, ক্ষত, অ্যালার্জি বা অন্য কোনও সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে অ্যাসিডজাতীয় উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো। আর বোটক্স, কেমিক্যাল পিল বা লেজারের মতো চিকিৎসা-ভিত্তিক সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পূজার আগে ত্বককে দ্রুত বদলে ফেলার চেয়ে নিয়মিত ও কোমল পরিচর্যাই হতে পারে নিরাপদ সৌন্দর্যচর্চার সহজ পথ।









