আজ সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এবং নতুন পরিবারের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য পোষ্য প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে যেসব প্রাণী এখনও একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ঘর খুঁজে পায়নি, তাদের স্মরণ এবং প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয় এই দিনে।
একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দত্তক নেওয়া মানুষের জীবনে যেমন আনন্দ ও পরিবর্তন আনতে পারে, তেমনি তা আরও বড় অর্থ বহন করে সেই প্রাণীটির জন্য, যে দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ বাড়ির অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় কাটালেও শেষ পর্যন্ত নতুন পরিবার খুঁজে পায় না। তাদের এই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয় ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’।
কীভাবে শুরু হলো এই দিবস
‘রিমেম্বার মি থার্সডে’ একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সচেতনতা দিবস। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলেন উডওয়ার্ড অ্যানিমেল সেন্টার এই উদ্যোগ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি সান দিয়েগো কাউন্টিতে অবস্থিত এবং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ বাড়ি খুঁজে দিতে কাজ করছে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #RememberMeThursday ব্যবহার করে মানুষকে প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দিবসটির প্রচারে ডায়ান কিটন, ইয়ান সোমারহাল্ডার, ওয়াইনোনা জাডসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাও যুক্ত হয়েছেন। ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০০ কোটিরও বেশি ইমপ্রেশন তৈরি করেছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২০১৭ সাল নাগাদ ৩৩ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে যুক্ত হন। সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই প্রচারাভিযান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশ্রয়হীন প্রাণীদের জন্য নতুন পরিবার খুঁজে দেওয়ার বার্তাকে আরও বিস্তৃত করে।
দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে নতুন জীবন
রিমেম্বার মি থার্সডে পালনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ উপায় হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনো প্রাণী দত্তক নেওয়া। পরিবারের সদস্য হিসেবে একটি প্রাণীকে ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে জায়গা করে দিলে তার জীবনও বদলে যেতে পারে।
যারা নতুন কোনও পোষ্য নেওয়ার কথা ভাবছেন, তারা স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে দত্তক নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। একটি প্রাণীকে দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আরেকটি প্রাণীর জন্যও জায়গা তৈরি হয়।
আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার সুযোগ
স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা যায়। প্রাণীদের খাবার দেওয়া ও যত্ন নেওয়া, কুকুরকে হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, তাদের শরীরচর্চার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার রাখার মতো কাজেও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া প্রাণী দত্তক নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজেও যুক্ত হওয়া যায়।
আয়োজন করা যায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান
দিবসটি উপলক্ষে বন্ধু, পরিবার, প্রতিবেশী কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে ছোট পরিসরে সচেতনতামূলক আয়োজনও করা যেতে পারে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে প্রাণী দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে পাড়ায় পোষ্য কুকুর নিয়ে হাঁটার আয়োজন করা যায়। আবার স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বড় পরিসরেও অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব।
এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের জন্য একটি স্থায়ী পরিবারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে জানানো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিন বার্তা
রিমেম্বার মি থার্সডের সচেতনতা তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দত্তক নেওয়া পোষ্য প্রাণীর গল্প, ছবি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদেরও উৎসাহিত করা যায়।
কীভাবে একটি পোষ্য প্রাণী আপনার জীবনে পরিবর্তন এনেছে, তার সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত কিংবা দত্তক নেওয়ার অভিজ্ঞতা এসব গল্প অন্যদেরও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের কথা ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণী দত্তক নেওয়ার বার্তা ছড়িয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেনি গার্থ, অ্যান্ডি ম্যাকডাওয়েল, উইল হুইটন, জর্জ লোপেজ, জ্যাক হানা, ক্রিস্টিন চেনোওয়েথ ও ক্যাথরিন হেইগলসহ আরও অনেকে।
নতুন ঘর না জোটাদের স্মরণে মোমবাতি
রিমেম্বার মি থার্সডেতে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কখনও নতুন বাড়িতে যেতে না পারা প্রাণীদের স্মরণেও মোমবাতি জ্বালানো হয়। এটি দিবসটি পালনের একটি শান্ত ও প্রতীকী আয়োজন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন মোমবাতি প্রজ্বালনের আয়োজন করা হয়। কেউ চাইলে বাড়িতে একাই মোমবাতি জ্বালিয়ে অংশ নিতে পারেন, আবার বন্ধুদের নিয়ে ছোট পরিসরে আয়োজন করা যায়। কোনও জনসাধারণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবেও এমন আয়োজন হতে পারে।
একটি মোমবাতির আলো মনে করিয়ে দেয় আজও বহু প্রাণী একটি নিরাপদ আশ্রয় ও পরিবারের অপেক্ষায় রয়েছে।
রিমেম্বার মি থার্সডে মানে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের কথা মনে করার, তাদের জন্য নতুন পরিবারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার এবং প্রাণী দত্তকের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।