একটুখানি হাসিতেই বদলে যেতে পারে দিন

কখনও কখনও একটি হাসিই পারে মন ভালো করে দিতে। কারও কাছ থেকে পাওয়া একটি আন্তরিক হাসি যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর ছোট্ট উদ্যোগও বদলে দিতে পারে তার পুরো দিন। তাই প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার পালিত হয় বিশ্ব হাসি দিবস। মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, আনন্দ ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে দেওয়াই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্ব হাসি দিবসের ইতিহাস

হাসিমুখের পরিচিত প্রতীকটি তৈরি করেছিলেন মার্কিন শিল্পী হার্ভে বল। একটি বৃত্ত, দুটি বিন্দু ও একটি বাঁকানো রেখার মাধ্যমে তৈরি সেই প্রতীক দ্রুতই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে প্রতীকটির অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন হার্ভে বল। তাঁর মতে, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে আনন্দ ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।

এই ভাবনা থেকেই ১৯৯৯ সালে তিনি বিশ্ব হাসি দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা ভৌগোলিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার মুখে হাসি ফোটানো এবং ছোট ছোট ভালো কাজের মাধ্যমে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য।

হার্ভে বল ২০০১ সালে মারা যান। তবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর দিবসটির মাধ্যমে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

হাসি নিয়ে মজার তথ্য

হাসিমুখের প্রতীক মানুষের আবেগ প্রকাশের অন্যতম পরিচিত মাধ্যম। ১৯৯৯ সালে ইন্টারনেটে ব্যবহারের জন্য হাসিমুখের প্রায় ৪৭০টি নকশা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। হাসির সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আর হাসিমুখের প্রতীকে হলুদ রং ব্যবহারের কারণও বেশ অর্থবহ এই রংকে সাধারণত আনন্দ ও প্রফুল্লতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

যেভাবে উদ্‌যাপন করবেন

বিশ্ব হাসি দিবসে বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। কারও সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, আন্তরিক প্রশংসা করা, প্রিয়জনকে একটি সুন্দর বার্তা পাঠানো কিংবা প্রয়োজনের সময় কারও পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই দিনটি উদ্‌যাপন করা যায়। অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, প্রবীণদের সময় দেওয়া কিংবা হাসপাতালের রোগীদের জন্য ছোট কোনো আয়োজনও হতে পারে মানবিক উদ্যোগ।

তবে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি নিজের আনন্দের কথাও মনে রাখা জরুরি। প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো, পছন্দের কোনো সিনেমা দেখা কিংবা নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখাও হতে পারে দিনটি উপভোগ করার সুন্দর উপায়।

শেষ পর্যন্ত বিশ্ব হাসি দিবসের সবচেয়ে বড় বার্তা একটাই, একটি আন্তরিক হাসি বিনা খরচে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পারে।