সারাদিনের ব্যস্ততার পর বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস বিভিন্ন কারণে রাতের ঘুম ব্যাহত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আপনার সৌন্দর্যে ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কমে যেতে পারে ত্বকের উজ্জলতা। তাই ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম জরুরি। ঘুম না এলে অনেকে আবার মোবাইল হাতে নিয়ে সময় কাটান, যা উল্টো ঘুমের সমস্যা আরও বাড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমের পরিবেশকে আরামদায়ক করতে বাজারে এসেছে বেশ কিছু প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র। মনে রাখা জরুরি, এগুলো অনিদ্রার চিকিৎসা নয়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম ও ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।
বালিশের নিচে শব্দ শোনার ব্যবস্থা
ঘুমানোর সময় পাশের মানুষকে বিরক্ত না করে শান্ত ধরনের শব্দ বা সংগীত শুনতে চাইলে বালিশের নিচে ব্যবহারযোগ্য ছোট শব্দযন্ত্র কাজে লাগতে পারে। কম্পনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে শব্দ পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি থাকে কিছু যন্ত্রে। বৃষ্টির শব্দ, প্রকৃতির আওয়াজ কিংবা ধীরগতির সংগীত শুনতে শুনতে মনকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করা যায়। অনেক যন্ত্রে নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও থাকে।
মাথায় পরার নরম শব্দযন্ত্র
ঘুমানোর সময় কানে আলাদা যন্ত্র ব্যবহার করতে অস্বস্তি হলে নরম কাপড়ের তৈরি শব্দযন্ত্রের ফিতা ব্যবহার করতে পারেন। এর ভেতরে পাতলা শব্দযন্ত্র থাকে এবং এটি মুঠোফোনের সঙ্গে সংযোগ করে বিভিন্ন ধরনের শান্ত শব্দ শোনা যায়। মাথায় পরে শোয়া যায় বলে ঘুমের সময়ও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। তবে শোয়ার আগে মুঠোফোন ব্যবহার দীর্ঘায়িত না করাই ভালো।
চোখের জন্য আরামদায়ক উষ্ণ মুখোশ
সারাদিন কম্পিউটার বা মুঠোফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে চোখ ক্লান্ত হয়ে গেলে উষ্ণতা ও হালকা চাপ দেওয়ার সুবিধাযুক্ত চোখের মুখোশ ব্যবহার করা যায়। কিছু যন্ত্রে চোখের চারপাশে হালকা উষ্ণতা, চাপ বা কম্পনের ব্যবস্থা থাকে। এতে চোখ ও মুখের আশপাশের পেশি কিছুটা শিথিল অনুভূত হতে পারে এবং শোয়ার আগে আরাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে ঘুমের সমস্যা নিয়মিত হলে শুধু কোনও যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, রাতে মুঠোফোন ও অন্যান্য পর্দার ব্যবহার কমানো এবং ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখা এসব অভ্যাসও ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।