মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যা করবেন

শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্য। দৈনন্দিন জীবনের চাপ, কাজের ব্যস্ততা, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক দুশ্চিন্তা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক সুস্থতা মানুষকে জীবনের চাপ সামলাতে, নিজের সক্ষমতা কাজে লাগাতে, শেখা ও কাজ চালিয়ে যেতে এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে।

তাই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক সুস্থতার জন্য বেশ উপকারী। প্রতিদিন হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা পছন্দের কোনও শারীরিক কাজে কিছুটা সময় দেওয়া যেতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটাও মেজাজ ভালো করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। একবারে ৩০ মিনিট সময় না পেলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে শারীরিক কাজ করা উপকারী।

পর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ঘুমের মান ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন বা অন্যান্য পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা কমানো এবং ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখা ভালো।

মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত বিরতি নেওয়াও জরুরি। একটানা কাজ না করে নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন। বই পড়া, গান শোনা, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যানের মতো আরামদায়ক কাজ মনকে শান্ত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখা এবং চাপ সামলানোর কিছু সহজ কৌশল অনুশীলন করলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা অনুভূতির কথা বিশ্বাসযোগ্য মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নিলে মানসিক চাপ কিছুটা কমে। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা একাকিত্ব কমাতে এবং মানসিক সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করে।

খাবারের দিকেও খেয়াল রাখা দরকার। নিয়মিত ও সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অতিরিক্ত চা-কফি বা অন্য কোনও অভ্যাস শরীর ও মনের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেদিকে নজর দিন। পাশাপাশি অতিরিক্ত নেতিবাচক খবর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো মানসিক চাপ বাড়ালে সেখান থেকেও বিরতি নিন।

নিজের অনুভূতিকে অবহেলা না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মন খারাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, কোনও কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা যদি টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের যত্ন নেওয়া উপকারী হলেও প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা নেওয়াও মানসিক সুস্থতারই অংশ।