দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করে ঘাড়ে ব্যথা? ভরসা রাখুন তিন ব্যায়ামে

সকাল থেকে সন্ধ্যা কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের পর্দায় চোখ রেখে কাটছে দিনের অনেকটা সময়। কাজের চাপে কখন যে ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে থাকছে, খেয়ালই থাকছে না। দিনের শেষে ঘাড়ে টান, কাঁধে ব্যথা, এমনকি মাথার পেছন থেকে শুরু হয়ে মাথাজুড়ে যন্ত্রণাও ভোগাতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় শক্ত হয়ে থাকার সমস্যাও দেখা যায়।

একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এবং ঘাড় নিচু করে কাজ করার অভ্যাস ঘাড়ের পেশিতে চাপ বাড়ায়। তাই শুধু ব্যথা কমানোর ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, বসার ভঙ্গি ঠিক রাখা এবং শরীরের উপযোগী কিছু হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস জরুরি। তবে সব ধরনের ঘাড়ের ব্যথার কারণ এক নয়। ব্যায়াম করতে গিয়ে যন্ত্রণা বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।

ঘাড়ের পেশি শিথিল করতে নেক রিলিজ

চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। কাঁধ দু’টি স্বাভাবিক ও শিথিল রাখুন। ধীরে ধীরে মাথা এক দিকে কাত করুন, যেন কান কাঁধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড থেকে মাথা সোজা করুন। এ বার অন্য দিকে একই ভাবে করুন। প্রতিটি নড়াচড়া হবে ধীর ও নিয়ন্ত্রিত। ঘাড়ে জোর করে টান দেবেন না। এই অভ্যাস ঘাড়ের পাশের পেশির টান কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ঘাড়ের নমনীয়তা বাড়াতে নেক স্ট্রেচ

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করার সময় ঘাড় প্রায়ই একই অবস্থানে থাকে। সেই একঘেয়েমি কাটাতে সোজা হয়ে বসে ধীরে মাথা ডান ও বাঁ দিকে ঘোরান। যতটুকু স্বচ্ছন্দে পারেন, ততটুকুই ঘোরাবেন। এর পর মাথা সামান্য সামনে ঝোঁকাতে পারেন। প্রতিটি ভঙ্গিতে অল্প সময় থাকুন এবং স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন। মাথা দ্রুত ঘোরানো কিংবা ব্যথা সহ্য করে ব্যায়াম করা ঠিক নয়।

শরীরের নমনীয়তায় ধনুরাসন

যোগব্যায়ামের পরিচিত আসন ধনুরাসন। উপুড় হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে দুই হাত দিয়ে গোড়ালি ধরতে হয়। শরীরের সামনের অংশ ও পা ধীরে মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করা হয়। তবে এই আসনে কোমর ও পিঠে চাপ পড়তে পারে। ঘাড়ে ব্যথা থাকলে নিজে থেকে ধনুরাসন শুরু না করে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ঘাড়ের সমস্যা তীব্র হলে বা নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়লে এই আসন এড়িয়ে চলুন।

কাজের ফাঁকে আর কী করবেন?

প্রতি কিছুক্ষণ অন্তর চেয়ার ছেড়ে উঠে একটু হাঁটুন। কম্পিউটারের পর্দা চোখের সমতলে রাখুন, পিঠে যথাযথ সমর্থন দিন এবং মোবাইল ব্যবহারের সময় দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে থাকবেন না। ঘাড়ে ব্যথার সঙ্গে তীব্র বা নতুন ধরনের মাথাব্যথা, জ্বর, হাত অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথা বারবার হলে বা না কমলেও চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি।