বিলাসবহুল পোশাকের ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়লো শিল্পের ছোঁয়ায় তৈরি এক অনন্য ঘাগরা-চোলি। মুকেশ ও নীতা আম্বানীর কন্যা ইশা আম্বানীর নবরাত্রির বিশেষ অনুষ্ঠানের সাজে ফুটে উঠলো ভারতীয় ঐতিহ্য ও হস্তশিল্পের ছোঁয়া। পোশাকের পরতে পরতে জায়গা করে নিয়েছে রাধাকৃষ্ণের রাসলীলা। এই বিশেষ পোশাক তৈরি করতে ১০ জন শিল্পী টানা ৯০ দিন ধরে কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে লেগেছে প্রায় ২০০০ ঘণ্টা। ফলে ঘাগরা-চোলিটি হয়ে উঠেছে শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন।
খাঁটি সিল্কের তৈরি এই ঘাগরা-চোলির বিশেষত্ব এর নকশায়। ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রের সঙ্গে মিশেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কলমকারি শিল্প। দুই ধারার শিল্পকর্ম একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছে রাধাকৃষ্ণের প্রেম ও রাসলীলার নানা মুহূর্ত। পোশাকের সূক্ষ্ম কারুকাজে রয়েছে জারদৌসি, ফ্রেঞ্চ নট, মুক্তো এবং আয়নার কাজ। প্রতিটি নকশায় শিল্পীদের নিপুণতা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্প ও বস্ত্রশিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত আম্বানী পরিবার। নীতা আম্বানীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘স্বদেশ’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রাক্-নবরাত্রি অনুষ্ঠানে এই বিশেষ পোশাকে হাজির হন ইশা। পোশাকটি তৈরি হয়েছে ‘তোরাানি’ ও ‘স্বদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে।
পোশাকটির নেপথ্যে রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার কর্ণ তোরাানির সংস্থা এবং পোশাক পরিকল্পক অনিতা শ্রফ আদাজানিয়ার ভাবনা। ‘তোরাানি’-র নকশায় ভারতীয় ঐতিহ্য ও পৌরাণিক কাহিনি নানাভাবে উঠে আসে। নবরাত্রির আবহে দেবীশক্তি, গারবা, নৃত্য ও সমর্পণের ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই সৃষ্টিতে।
পোশাকের সঙ্গে ইশা বেছে নিয়েছিলেন মায়ের সংগ্রহের বিশেষ গয়না। খোলা চুলের সঙ্গে রঙিন পরান্দি তাঁর সাজে যোগ করে আলাদা মাত্রা। ঘাগরা-চোলির শিল্পসমৃদ্ধ নকশা, ঐতিহ্যবাহী গয়না এবং বিশেষ কেশসজ্জায় তাঁর উপস্থিতি হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
দুই রাজ্যের শিল্পধারা, ১০ শিল্পীর নিষ্ঠা এবং ৯০ দিনের পরিশ্রমে তৈরি এই পোশাক দেখিয়ে দিললো, ভারতীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক ফ্যাশনের মাধ্যমে কীভাবে নতুন রূপ দেওয়া যায়।