সকালে ঝলমলে রোদ, দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি, বিকালে কুয়াশা আর সন্ধ্যায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। একই দিনে আবহাওয়ার এমন নাটকীয় পরিবর্তন কি সম্ভব? পৃথিবীর কিছু জায়গায় সত্যিই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবহাওয়ার চেহারা বদলে যায়। কোথাও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, কোথাও সমুদ্রের প্রভাব, আবার কোথাও দ্রুতগতির শীতল বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে এই বৈচিত্র্য। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এমন জায়গার আকর্ষণও আলাদা।
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া: এক দিনে চার ঋতুর আবহাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উঠলে মেলবোর্নের নাম আসে। শহরটির উত্তরে উষ্ণ ও শুষ্ক স্থলভাগ, আর দক্ষিণে শীতল দক্ষিণ মহাসাগর। দুই দিক থেকে আসা ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বায়ুপ্রবাহের কারণে এখানে রোদের পর হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস, মেঘ কিংবা বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দ্রুতগতির শীতল বায়ুপ্রবাহ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া: দ্বীপটির আবহাওয়াও বেশ পরিবর্তনশীল। কোনও দিন সকালে আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ ও শুষ্ক থাকলেও দুপুরের পর তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, সঙ্গে যোগ হতে পারে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। পাহাড়ি এলাকা ও উপকূলের আবহাওয়ার পার্থক্য এই অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।
লাদাখ, ভারত: উঁচু পাহাড় ও শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পরিচিত লাদাখে দিনের বেলা রোদ বেশ তীব্র হতে পারে, আবার বাতাস বইলে দ্রুত ঠান্ডা অনুভূত হয়। উচ্চ পার্বত্য পথে আবহাওয়া আরও দ্রুত বদলায়। কোনও কোনও সময় মেঘ, বৃষ্টি কিংবা তুষারপাতও দেখা যায়। তাই এখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া জরুরি।
কুইন্সটাউন, নিউজিল্যান্ড: দক্ষিণ আল্পসের কাছাকাছি অবস্থিত কুইন্সটাউনে রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল হঠাৎ মেঘলা হয়ে যেতে পারে। পাহাড়ি আবহাওয়া ও আশপাশের হ্রদের প্রভাবে তাপমাত্রা, বাতাস ও বৃষ্টির ধরনে পরিবর্তন দেখা যায়। ফলে একই দিনে কখনো উজ্জ্বল রোদ, কখনও কুয়াশা কিংবা শীতল বাতাসের মুখোমুখি হতে পারেন পর্যটকেরা।
রেইকিয়াভিক, আইসল্যান্ড: উত্তর আটলান্টিকের আবহাওয়ার প্রভাবে আইসল্যান্ডের রাজধানীতেও দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। পরিষ্কার আকাশের পর বৃষ্টি, প্রবল বাতাস কিংবা শীতল আবহাওয়া হাজির হতে পারে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। শীতকালে তুষারপাতের সম্ভাবনাও থাকে।
আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের পেছনে মূলত কাজ করে ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চতা, সমুদ্রের প্রভাব এবং উষ্ণ ও শীতল বায়ুপ্রবাহের চলাচল। তবে ‘এক দিনে চার ঋতু’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে চারটি ঋতুর আবির্ভাব নয়। বরং অল্প সময়ে গরম, ঠান্ডা, বৃষ্টি ও বাতাসের মতো ভিন্ন আবহাওয়ার অভিজ্ঞতাকে বোঝায়।
এ ধরনের জায়গায় বেড়াতে গেলে সঙ্গে রাখা ভালো হালকা ও গরম পোশাক, বৃষ্টির উপযোগী জ্যাকেট এবং আরামদায়ক জুতা। কারণ প্রকৃতির এই আকস্মিক বদল ভ্রমণকে যেমন রোমাঞ্চকর করে তোলে, তেমনি প্রস্তুতি না থাকলে বিপাকেও ফেলতে পারে।