কাজের চাপে পার্লারে যাওয়ার ফুরসত মেলেনি, অথচ দুয়ারে কড়া নাড়ছে দুর্গাপূজা! উৎসবের সাজে মুখে চাই ঝলমলে আভা। শেষ মুহূর্তে ত্বকের যত্ন নিতে বেশি সময় খরচ করারও প্রয়োজন নেই। রাতে মাত্র তিন ধাপে সেরে নিতে পারেন রূপচর্চা। ঘরোয়া উপকরণে ত্বকের পরিচর্যা করে ক্লান্তির ছাপ কমাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে পারেন।
প্রথম ধাপ: মুখ পরিষ্কার করা
সারাদিন ঘোরাঘুরির পর বাড়ি ফিরে প্রথমেই মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে মুখের মেকআপ তুলে ফেলুন। তার পর ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করুন। ত্বক থেকে ময়লা ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ দূর করার পরেই শুরু হবে পরের ধাপ।
দ্বিতীয় ধাপ: হালকা হাতে ম্যাসাজ
এ বার মুখে ম্যাসাজের পালা। শুষ্ক ত্বক হলে দুধের সর, আর তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বক হলে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মিনিট পাঁচেক হালকা হাতে মুখ ম্যাসাজ করে নিন। এখন বাতাসে আর্দ্রতা কমতে শুরু করেছে। ফলে ত্বকে টান ধরছে। দুধের সরের সঙ্গে কাঠবাদামের তেল মিশিয়ে নিয়েও মাসাজ করতে পারেন। পাঁচ মিনিট হালকা হাতে মুখে ম্যাসাজ করুন। শেষে ভেজা নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছে নিন। ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। তার ফলে ত্বকের ক্লান্তিভাব কমে।
তৃতীয় ধাপ: ফেসপ্যাক
এখন মুখে ফেসপ্যাক লাগান। ফেসপ্যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরায়। তাই ত্বকের ধরন বুঝে বেছে নিন ফেসপ্যাক। এক চামচ বেসন ও এক চামচ মুলতানি মাটি পানিতে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। মুখে ও গলায় লাগিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিট রাখুন। পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ধুয়ে ফেলুন। ত্বক শুষ্ক হলে মুলতানি মাটির পরিবর্তে ওট্সের সঙ্গে সামান্য কাঁচা দুধ ও মধু মিশিয়ে নরম প্যাক তৈরি করুন। ব্যবহারের আগে উপকরণটি ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। জ্বালা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন।
রূপচর্চার শেষে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। এই টোটকায় মুখের কালচে ভাব কমাবে। ত্বকে আর্দ্রতার মাত্রাও বাড়াবে।
তবে মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করলেই রাতারাতি ত্বকের কালচে ভাব দূর হবে না। নিয়মিত ও কোমল পরিচর্যা ত্বককে সতেজ এবং উজ্জল করবে।